সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
বালিশের পাশে ফোন রেখে ঘুমান? জেনে নিন যেসব ঝুঁকি রয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ে হাতপাখার প্রচার রিকশা ভাঙচুর, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি দিল্লির রেসকোর্স মসজিদ ও কবরস্থান রক্ষার দাবি জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ‘সমাজে নৈতিকতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ইমামদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ’ ‘মাওলানা হাবীবুর রহমানের ভূমিকা বাংলাদেশের ইসলামি আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে’ ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ বাচ্চাদের দুষ্টুমি কমাতে কোরআন-হাদিসের আমল ও করণীয় সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির একজন শ্রমিক, অন্যজন ওমরাহ যাত্রী  গাজায় খাদ্যসংকটে ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি, সহায়তা কমাচ্ছে ডব্লিউএফপি  এবার চট্টগ্রাম বিভাগের ইমাম-খতিবদের জন্য আস-সুন্নাহর বিশেষ প্রশিক্ষণ

মৃত্যুফাঁদ সংস্কার করাই তার জীবনের ব্রত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

কৌশিক পানাহী: তখন জুলাই মাস, বর্ষার দুপুর। সদ্য স্কুল পাশ করে চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে কলেজে ভর্তি হতে গিয়েছিল ১৬ বছরের ছেলেটি। ফেরার সময় ছিল তুমুল বৃষ্টি। রাস্তা দেখা যায় না এমন অবস্থা।

ওই সময় চাকার তলায় পড়ে যায় একটি গর্ত। উল্টে যায় মোটরসাইকেল। আঘাত পেয়ে মাথার ভেতরে প্রবল রক্তক্ষরণ ঘটায় হেমারেজেই মারা যায় ছেলেটি। মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও শেষ পর্যন্ত বেঁচে যায় চাচাতো ভাই।

২০১৬ সালের ৮ জুলাই এই দুর্ঘটনা ঘটে, যা বদলে দেয় বছর চল্লিশের দাদারাও ভিল্লোরের জীবন। দুর্ঘটনায় মৃত রাম ভিল্লোর নামের ওই ১৬ বছরের ছেলেটির বাবা যে তিনি!

রাস্তার গর্তের কারণে দাদারাও ভিল্লোর দুর্ঘটনায় হারিয়েছিলেন একমাত্র সন্তানকে। তারপর থেকে গর্তই শত্রু তার। তবে এ শত্রুতার প্রকাশ ইতিবাচক।

সেদিন থেকেই দাদারাও শপথ নেন, আর কোনো সন্তানের প্রাণ যাতে গর্তের জন্য খোয়া না যায়, সে জন্য আজীবন চেষ্টা চালাবেন তিনি।

যেমন ভাবা তেমনই কাজ। পথ সংস্কারের কাজ শুরু করেন ভারতের আন্ধেরি প্রদেশের দাদারাও। চলার পথে, বাড়ির আশপাশে, আত্মীয়দের বাড়িতে গিয়ে, যেখানেই দেখেন রাস্তার ক্ষত, পাথর-বালি-সিমেন্ট জোগাড় করে লেগে যান সংস্কারে। একাই।

গ্রীষ্মের খররোদ বা বর্ষার ঝুম বৃষ্টি বা কনকনে শীতের সন্ধ্যা– দাদারাও গর্ত দেখলেই লেগে যান সংস্কারে।

দাদারাও বলেন, ‘কিছুতেই মেনে নিতে পারতাম না ছেলেটার চলে যাওয়া। কী করব, তাও বুঝতে পারতাম না। শুধু মাথায় ঘুরতো, রাস্তার একটা গর্ত আমার ছেলেটাকে ছিনিয়ে নিল! তার পর থেকে আশপাশে গর্ত বা ভাঙাচোরা রাস্তা দেখলেই অস্বস্তি হতো। কী এক তীব্র কষ্ট হতো।

এক দিন, আশপাশ থেকে মাটি-নুড়ি-পাথর খুঁজে এনে নিজেই সারলাম একটা গর্ত। সমান করলাম রাস্তাটা। দেখলাম, একটু শান্তি লাগলো। এই করেই শুরু করলাম। একাই। কোথাও গর্ত দেখলে, সেটা না সারানো পর্যন্ত স্বস্তি পাই না।’

তার ভাষ্য, ‘পুত্রশোকের অতল পারাবারে একমাত্র খড়কুটো এই কাজটিই। সরকার-প্রশাসনের দারে দারে ঘুরে ঘুরেও কোনও বিচার পাইনি ছেলের মৃত্যুর। কাউকে বোঝাতেই পারিনি, রাস্তার এই গর্ত সড়ক দুর্ঘটনার একটা বড় কারণ হয়ে উঠছে শহরে। বিশেষ করে বর্ষাকালে মুম্বাইয়ের রাস্তাঘাট যেন মারণফাঁদ হয়ে ওঠে এই গর্তের কারণেই।’

রাস্তা সংস্কার করতে গিয়ে কারও সাহায্য না পেলেও পেয়েছেন বাধা। দাদারাও দাবি করেন, কাজ বন্ধ করার শর্তে মুম্বাই সরকার নোটিশ পাঠায় তাকে। তার ‘মর্জিমাফিক’ সংস্কা