বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
মক্কায় মসজিদে অনৈতিক কাজ, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হাটহাজারীতে আলেম ও তাঁর শাশুড়িকে নিয়ে অভিযোগ ভিত্তিহীন: আল-হাইআতুল উলয়া লন্ডনে আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত মুফতি তাকি উসমানি ২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি সিঙ্গাপুরে এমপি হানজালার সঙ্গে বিকেএম নেতাদের সাক্ষাৎ ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি নিউইয়র্কে পীর সাহেব চরমোনাইকে উষ্ণ অভ্যর্থনা এ সপ্তাহে মসজিদুল হারামের খতিব জুহানি, মসজিদে নববীতে হুযাইফি ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় ৫ হাজারের বেশি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত!

বাংলাদেশে হাদিসের প্রথম পাঠশালা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ইসমাঈল আযহার : প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁ। মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, শীতলক্ষ্যা বিধৌত এই সোনারগাঁ। মধ্যযুগের রাজধানী সোনারগাঁয়ের চারপাশের প্রবাহিত নদীগুলো ছিল জোয়ারের পানিতে প্রাণবন্ত।

সেদিনের সোনারগাঁ কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছিল বাংলার রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, শিল্প-সংস্কৃতি।

কালের কড়াল গ্রাসে এখন বিধ্বস্ত ঐতিহ্যের সামান্য চিহ্ন আজ বিদ্যমান। বাংলার প্রাচীন রাজধানী, বার ভূঁইয়ার অবস্থান, আজম শাহ ও ঈশাখার রাজত্ব, বিশ্বপর্যটক ইবনে বতুতার আগমনসহ নানাবিধ ঐতিহ্যের সমাহার ঘটেছে সোনারগাঁয়ে।

কিন্তু সোনারগাঁ গর্বিত ও ধন্য হয়েছে ভিন্ন একটি কারণে। মধ্যযুগের বিখ্যাত হাদিস বিশারদ শায়েখ আবু তাওয়ামাহ রহ. এর আগমন।

আরবে ইসলামের আলো বিকশিত হওয়ার শুরু থেকেই উপমহাদেশের ভারতবর্ষে ইসলামের আলোকছটা ছাড়াতে শুরু করে। আরব বণিকরা ইসলাম প্রচারে ব্রত হন। তবে তা পূর্ণতা পায় ১২০৩ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খিলজীর বাংলা বিজয়ের মধ্য দিয়ে।

এরপর নবদ্বীপ, গৌড় ইত্যাদি এলাকায় মুসলিম শাসনের ভিত্তি দৃঢ় হলেও পূর্ববঙ্গে তখনও সেন বা দেবরাজ বংশের রাজাগণ রাজত্ব করছে। এদিকে দিল্লীর মসনদে তখন আসেন সম্রাট গিয়াসুদ্দীন বলবন।

১২৭০ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁ বলবনের অধীনে চলে আসে। এরপর থেকে এ এলাকায় জ্ঞানী-গুণী, সূফী-সাধকদের আগমন বৃদ্ধি পেতে থাকে।

দ্বাদশ শতাব্দির কিছুটা আগে ও পরে সূফী-সাধকরা মধ্য এশিয়ার জ্ঞান-বিজ্ঞানের তীর্থকেন্দ্রগুলো আর ধরে রাখতে পারেননি। ক্রমাগত মোঘল আক্রমণের ফলে বিধ্বস্ত এই নগরীর সাধকরা তৎকালীন স্বর্গভূমি ভারতবর্ষের দিকে যাত্রা শুরু করে।

এই প্রেক্ষিতে গিয়াসুদ্দীন বলবনের রাজত্বকালে মধ্য এশিয়া থেকে আগমন করেন ইসলামি চিন্তাবিদ ও বিখ্যাত হাদিস বিশারদ শায়েখ শরফুদ্দীন আওয়ামাহ রহ.। তিনি দিল্লীতে আসার পরপরই তার যশ-খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। জনপ্রিয়তায় তিনি সম্রাটকেও অতিক্রম করে ফেলেন।

ফলশ্রুতিতে সভাসদের আক্রোশে সম্রাট আবু আওয়ামাহ রহ. কে সোনারগাঁয়ে সফর করতে আনুরোধ জানান। এরপর আবু আওয়ামাহ রহ. একটি ক্ষুদ্র কাফেলা নিয়ে তৎকালীন ভারতবর্ষের দুর্গম এলাকা সোনারগাঁয়ের পথে যাত্রা শুরু করেন।

এখানেই শুরু হয় হাদিসের প্রথম পাঠ। এর আগে কেউ এভাবে হাদিসের পাঠ দেননি। আর এই সোনারগাঁর অস্তিত্ব বাংলাদেশে। এটাই বাংলাদেশের প্রথম দরসগাহ, যেখান থেকে সারা বাংলায় হাদিসের আলো ছড়িয়েছে।