নাজমুল ইসলাম কাসিমী: মক্কা মুকাররমা'-এর কবরস্থান জান্নাতুল মুআল্লা। আর মদিনা মুনাওয়ারার কবরস্থান জান্নাতুল বাকি। এর মূল নাম 'বাকিউল গারকাদ'। হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় থাকাবস্থায় তাঁর দুধভাই হযরত উসমান ইবনে মাযঊন রাযি-এর মৃর্ত্যু হয়। সাহাবায়ে কেরাম তখন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, তাকে কোথায় দাফন করা হবে? হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করবন, আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে, তাকে 'বাকিউল গারকাদ'-এ দাফন করা হবে। (মুসতাদরাকে হাকিম, খ.১১ পৃ.১৯৩)।
এভাবেই এ জায়গা কবরস্থান'র জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্বাচিত হয়ে যায় এবং সর্বপ্রথম হযরত উসমান ইবনে মযঊন রাযি.-কে দাফন করার মধ্য দিয়ে কবরস্থানটির ভিত্তি স্থাপিত হয়। তারপর কবরস্থান তিনদিকেই প্রশস্ত হতে থাকে। আজ সেটি বিশাল জায়গা জুড়ে বিস্তৃত।
জান্নাতুল বাকি মসজিদে নববির পুবদিকে অবস্থিত। প্রথমদিকে মদজিদে নববি আর বাকির মাঝখানে 'হারতুত দাগওয়াত' নামে একটি মহল্লা ছিলো। যেখনে মদজিদে নববির খাদেমরা তাদের বংশধর নিয়ে বসবাস করতেন। ১৪০৫ হিজরীতে মসজিদে নববি সংস্কারের সময় এই মহল্লাকে অন্য এক জায়গায় স্থানান্তরিত করা হয়। এখন এই জায়গাটি মসজিদে নববির বারান্দা হিসেবেই ব্যবহার হয় এবং এটার শেষ প্রান্তেই মসজিদে নববির চার দেয়াল।
মসজিদে নববির দেয়ালের পর 'আবু যর' নামে একটি সড়ক। তারপর যথেষ্ট উচ্চতার পর জান্নাতুল বাকি। কবরস্থানের চতুর্দিকে একটি উঁচু বাউন্ডারি। পশ্চিম দিকে একটি বড় গেইট। কবরস্থানে যাওয়ার জন্য একটি প্রশস্ত সিঁড়ি। ফজরের পরে এবং আসরের পরে কবরস্থান সবার যিয়ারতের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। বাইরে কয়েক প্লাটুন পুলিশের অবস্থান। ভেতরেও শক্তভাবে নজরদারি করা হয়। কোনোপ্রকার বেদাতি কাজ শুরু হলে শক্তহাতে দমন করা হয়।
মৃতদের দাফন করার জন্য জান্নাতুল বাকিকে নির্বাচন করে স্বয়ং আল্লাহ পাক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আদেশ দিয়েছেন। সর্বপ্রথম হুজুর সাল্লাল্লাহু আলালাইহি ওয়া সাল্লাম তার দুধভাইকে দাফন করেন। তারপর তাঁর চাচি- হযরত ফাতেমা বিনতে আসাদ (হযরত আলী রাযি.-এর আম্মা)। তারপর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলালাইহি ওয়া সাল্লামের ছেলে হযরত ইবরাহিম রাযি.-কে এখানে দাফন করা হয়।
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তিন মেয়ে- হযরত রুকাইয়া রাযি., হযরত যয়নাব রাযি., এবং হযরত উম্মে কলসুম রাযি.-এর কবরও এখানে। এই তিন মেয়েই হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবিত থাকাবস্থায় ইন্তেকাল করেন। এর একটু সামনে উম্মুল মুমিনিন হযরত খাদিজাতুল কুবরা রাযি. এবং