আবদুল্লাহ তামিম: পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক গোত্র, বর্ণ ও ধর্মের মানুষের বসবাস রয়েছে যা কিনা বিভিন্ন ঐশী ধর্মের প্রাণকেন্দ্র।
এ ছাড়া, ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং তেল ও গ্যাসের খনির বিশাল ভাণ্ডারের কারণে এই এলাকাটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে সবার কাছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে পাশ্চাত্যের লোলুপ দৃষ্টি রয়েছে এ অঞ্চলের ওপর।
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভূ-রাজনৈতিক কারণে প্রথমে ব্রিটেন ও পরে আমেরিকার কাছে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। গ্যাস ও তেল সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য পাশ্চাত্য এ অঞ্চলকে ভেঙে একাধিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে এবং নিজেদের ইচ্ছেমতো সীমানা নির্ধারণ করে দেয়। এ
কই সঙ্গে তারা এ অঞ্চলের রাজতন্ত্র শাসিত সরকারগুলোর নিরাপত্তা দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দেয়। ছোট বড় দেশগুলোর সমন্বয়ে আমরা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যে ভৌগোলিক চেহারা দেখছি তা ব্রিটেন ও ফ্রান্সের উপনিবেশিক শাসনের ফসল।
১৯১৪ সালে 'সাইকাস-পিকট' পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্রিটেন ও ফ্রান্স নিজেদের ইচ্ছেমতো সীমানা নির্ধারণ করে মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক দেশের জন্ম দিয়েছিল।
আরব-ইসরাইল দ্বন্দ্ব, ইরাক-কুয়েত যুদ্ধ, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সৌদি আরবের সীমানা বিরোধ এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান অন্যান্য সংকট এসবই মধ্যপ্রাচ্যে উপনিবেশিক শাসনের ফল।
১৯৪৮ সালে অবৈধ ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিনকে খণ্ডবিখণ্ড করে এ অঞ্চলে যে স্থায়ী সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে তাও উপনিবেশিক শাসনের অন্যতম ফসল।
শীতল যুদ্ধের সময় দুই মেরুকেন্দ্রীক ব্যবস্থায় আমেরিকার টার্গেট ছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকে ভেঙে দক্ষিণাঞ্চলীয় মুসলিম এলাকাগুলোকে আলাদা করে দেয়া। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অঞ্চলগুলোকেও জাতীয়তার ভিত্তিতে খণ্ড বিখণ্ড করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় মার্কিন সরকার।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো লক্ষ্যই অর্জিত না হওয়ায় আমেরিকা এ অঞ্চলকে অসুস্থ ব্যক্তির সঙ্গে তুলনা করে ফের এ এলাকার দেশগুলোকে ভেঙে টুকরো টুকরো করার উদ্যোগ নিয়েছে। শীতল যুদ্ধের পর বিশেষ করে ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার পর আমেরিকা ও তার পাশ্চাত্যের মিত্ররা তেল সমৃদ্ধ ও ভূ-কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করে।
সে অনুযায়ী তারা à¦