আতাউর রহমান খসরু: তাবলিগ জামাতের মুরব্বি ও দিল্লি নিজামুদ্দিনের জিম্মাদার মাওলানা সাদ কান্ধলভির নেতৃত্বের (ইমারতের) পক্ষে বিশেষ বাংলাদোশে স্বাক্ষরতা অভিযান চলছে।
তবে তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। কেবল আলেম ও দীনি প্রতিষ্ঠান (মসজিদ ও মাদরাসার দায়িত্বশীল) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাক্ষর নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
গত সপ্তাহের শেষ দিকে আওয়ার ইসলামের হাতে এমন একটি প্রচারপত্র ও স্বাক্ষরের নথি এসেছে।
স্বাক্ষরতা অভিযানটি কাকরাইলের একজন মুরব্বি চালাচ্ছেন বলেও প্রতিবেদক জানতে পেরেছে।
প্রচারপত্রের শুরুতে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজের মাধ্যমে উম্মত যে উপকৃত হচ্ছে সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে উলামায়ে কেরামকে এ কাজ যেনো নির্বিঘ্ন হয় তাতে মনোযোগী হওয়ার আহবান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে মাওলানা সাদকে দেওবন্দের আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত দাবি করে তার ব্যাপারে দেওবন্দের কর্মপদ্ধতি আরও সুন্দর হতে পারতো বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
প্রচারপত্রে মাওলানা সাদ সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের আপত্তি, ভুল ধারণা, তার নেতৃত্ব বিষয়ে উত্থাপিত নানান প্রশ্নের উত্তর এবং ইমারতের পক্ষে দলিল উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রচারপত্রের শেষে তার পক্ষে সমর্থন চাওয়া হয়।
প্রতিবেদক কাকরাইলের সংশ্লিষ্ট মুরব্বির সঙ্গে যোগাযোগ করলে নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, আমরা কাজটি করছি দুটি উদ্দেশ্য নিয়ে। এক. শালীনভাবে মাওলানা সাদের সম্পর্কে উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর দেয়া।
দুই. মাওলানা সাদের পক্ষে উলামায়ে কেরাম নেই বলে যে প্রচার করা হচ্ছে তা ভুল প্রমাণ করা।
ইতিমধ্যে কয়েকশো আলেম মাওলানা সাদের পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
প্রচারপত্রটি বাংলা ভাষা ছাড়াও ইংরেজি, উর্দু, আরবি ও মালয় ভাষায় অনুবাদ করে তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে বলেও জানা যায়।
উল্লেখ্য, মাওলানা সাদ কান্ধলভির বেশ কিছু আপত্তিকর বক্তব্যের জের ধরে আলেম উলামা ও তাবলিগ জামাতের একটি পক্ষ তার প্রতি আস্থাশীল নন। যে কারণে গত ইজতেমায় তিনি ঢাকায় এসেও বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে পারেননি।
তবে তার বক্তব্যের আপত্তিকর বিষয়গুলোর সুরাহা হওয়ার আগে এমন স্বাক্ষর কতটুকু গৃহিত হবে আলেম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
চিঠির পিডিএফ কপি পেতে নিচের লিংক দুটিতে ক্লিক করুন