বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮


সহনীয় ঘুষ-ঘুষি : মাননীয়দের বাচনে বচন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মোস্তফা কামাল

ঘুষ নিয়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে কাস্টমস ও পুলিশ সহনীয় মাত্রায় ঘুষাঘুষি করলে ভাঙচুরসহ এত কাণ্ডকীর্তি হয় না। গড়াত না এমন ফ্যাসাদে। ইমিগ্রেশন ওসি ওমর শরীফকেও বদলি হতে হয় না।

সহনীয়তার গুরুত্ব না বোঝায় এখন তাদের সবার দুর্গতি। গণমাধ্যমগুলোও রসালো খবরের আইটেম পেতো না। এ সময়টাতেই নিজ মন্ত্রণালয়ের লোকজনদের সহনীয় মাত্রায় ঘুষ খাওয়ার পরামর্শ দিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। কিন্তু ঘুষ বিষয়ে তার সহনীয় মাত্রার থিউরি মানতে নারাজ দুর্নীতি দমন কমিশন চেয়ারম্যান।

তিনি বলেছেন, ঘুষ ঘুষই। এটা দুর্নীতি। তা সহনীয়, অসহনীয়, দুঃসহ যা-ই হোক। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে ঘুষ-দুর্নীতি নম্বর ওয়ান প্রতিবন্ধকতা হলেও ব্যাপকতার তোড়ে শিক্ষামন্ত্রীর একে সহনীয় পর্যায়ে করার আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতেই দুদক চেয়ারম্যানের এই প্রতিক্রিয়া।

দেশের বিদ্যমান আইনে ঘুষ দেওয়া-নেওয়া দুটোই দুর্নীতি হিসেবে সংজ্ঞায়িত। শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ক্রিমিনাল প্রসিডিওর কোডে অন্তর্ভুক্ত। যদিও হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি নিয়েও দিন কয়েক সরস আলোচনা ছাড়া কাজের কাজ কিছু হয় না। কোনো সমাধানও মেলে না।

এ পর্যায়ে এসে সহনীয়তা বিষয়েও কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। তবে কিঞ্চিত ভিন্নতা শিক্ষামন্ত্রীর তত্ত্বের সঙ্গে। তত্ত্বের তরজমায় বলেছেন, চালের দাম অসহনীয়। সরকারই চেয়েছিল চালের দাম একটু বাড়ুক

কারণ, মাননীয়দের এ ধরনের মন্তব্যে মানুষের কাতুকুতু ছাড়া আর কোনো প্রাপ্তি নেই। বরং ঘুষ, ঘুষি, দুর্নীতি, লেনদেন, বিনিময়, হাদিয়া, নজরানা, স্পিডমানি, গিফটের ঝাপটাঝাপটি ও গতি আরও বাড়ে। অফিস-আদালতে ঘুষের আলগা কামাই, মহার্ঘ্য (মহা+অর্ঘ্য), উপরি, ইনাম ইত্যাদি সোহাগি নামও রয়েছে।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদসহ আমাদের কারও কারও স্মৃতিভ্রম না ঘটে থাকলে জানার কথা শিক্ষামন্ত্রীর আরও অনেক আগেই ঘুষকে বৈধতার ফতোয়া দিয়েছেন আরও পাওয়ারফুল মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

ঘুষ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অর্থমন্ত্রীর অনেক চড়া-কড়া বচনের সঙ্গে রয়েছে বাচনও। ঘুষকে তিনি স্পিডমানি নামে ডাকতে বলেছেন। ঘুষ নিয়ে মাতামাতির সময় আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, ‘স্পিড মানি বৈধ। গিফটও অবৈধ নয়। কারও কাজ দ্রুত করে কিছু নিলে সেটা হবে উপহার।

সুইস ব্যাংকসহ বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের বিষয়েও তত্ত্ব রয়েছে তার। বলেছেন, এটা পাচার নয়, লেনদেন। আর এত লেনদেন মানে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। মানুষের হাতে অনেক টাকাই মানুষের আয় বৃদ্ধির দৃষ্টান্ত।

এ পর্যায়ে এসে সহনীয়তা বিষয়েও কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। তবে কিঞ্চিত ভিন্ন