ইমরান আনোয়ার
কাতার থেকে
আমাদের ব্যর্থতা হল আমরা গুণীজনদের সম্মান প্রদর্শনে সবসময় কার্পণ্য করি। যারা প্রকৃত মর্যাদা ও প্রশংসার দাবিদার, তাদের প্রতি আমাদের কুণ্ঠিত মনোভাব সত্যিই এক বিচিত্র চরিত্রের পরিচয় দেয়!
ধর্মীয় অঙ্গনে প্রতিভার অভাব নেই; তবে আন্তরিক মূল্যায়ন অথবা উপযুক্ত সমাদরের অভাবে প্রকৃত সফল মানুষগুলো বরাবরই আলোচনার বাইরে থেকে যায়। তাদের প্রতি আমাদের নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গি যেন অনাকাঙ্ক্ষিত সামাজিক রীতিতে পরিণত হয়েছে।
অথচ আচমকা একদিন তাদের সাফল্য-দীপ্তিতে চারপাশের মানুষগুলো 'ধন্য-ধন্য' রবে ছুটে আসে। প্রশংসা ও বন্দনা বাণীতে সে মানুষগুলো অস্থায়ী সুখের বৈভবে বিভোর হয়। এমনটি কখনো কাম্য নয়! গুণী মানুষদের সূচনা থেকেই এপ্রিশিয়েট করা প্রয়োজন। তাদের কৃতিত্বকে আনন্দের সাথে সেলিব্রেট করা উচিৎ। তবেই না তাদের কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে! ভাল কাজের অনেক বেশি অনুপ্রেরণা পাবেন তারা।
এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বিদেশের মাটিতে গর্বিত গুণী মানুষদের পরিচয় তুলে ধরার জন্য আমরা প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। সফল মানুষের পথচলা ও স্বপ্ন সত্যি হওয়ার গল্প আমাদের ভবিষ্যতকে অনুপ্রাণিত করবে- এই প্রত্যাশাই এই প্রচেষ্টার মূল উপাদান।
পরিচিতি ও সাফল্যগাঁথা
‘ফাইলাসুফ আল-হিন্দ’ এবং ‘ফকীহুল হিন্দ’, এ দুটো উপাধি নিশ্চয়ই একজন শিক্ষার্থীর পরম মেধা ও বুদ্ধিমত্তাকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে! কতটা বিচার-বিশ্লেষণ এবং নিরঙ্কুশ প্রতিভা প্রদর্শন করলে মিশরের কায়রো ইউনিভার্সিটিতে একজন বাংলাদেশি এমন উপাধি লাভ করতে পারেন- তা বোধকরি সবিস্তারে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। এরপরও কারো মনের অতৃপ্তি মেটানোর জন্য একটি তথ্য উল্লেখ করা যেতে পারে, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সুদীর্ঘ ইতিহাসে স্নাতকে হাতেগোনা কয়েকজন 'মুমতাজ' (এ গ্রেড) অধিকারীর অন্যতম হলেন আমাদের এ ব্যক্তি।
কুমিল্লা-দেবীদ্বার, রসুলপুর-এর বাসিন্দা মাওলানা আব্দুল আওয়াল শৈশবের শুরুতেই কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। তারপর ২০০৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া' থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করে সরকারি তত্ত্বাবধানে পূর্ণ স্কলারশিপসহ ২০০৪-এ মিশর পাড়ি জমান।
পুরো মাদরাসা শিক্ষাকালে অসামান্য সাফল্যধারা বজায় রেখেছেন তিনি। তার সময়ে তিনি 'তর্কযোগ্যভাবে' দারুল আ