বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


ইউরোপ যাত্রার ভয়ঙ্কর কাহিনী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম : আবছা অন্ধকার। গাড়ি ছুটে চলছে। সামনে পেছনে দু’টি গাড়ি। ওই দু’টি গাড়ির যাত্রীদের হাতে বড় বড় বন্দুক। তাক করে আছে বিভিন্ন দিকে। ভয়ে বুকটা থর থর করে কাঁপছিল। এই বুঝি আমাদের মেরে ফেলবে।

এরপর গাদাগাদি করে ছোট একটি বোটে প্রায় ২০০ জনকে উঠানো হলো। চাপে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম। একপর্যায়ে যাত্রা শুরু। ভয়ে শরীরে কাঁপুনি। ধীরে ধীরে বোট মহাসাগরের দিকে এগুচ্ছে। চারদিকে তাকিয়ে দেখি কূল কিনারা নাই। আমাদের সঙ্গে অনেকে ভয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বমি করতে করতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাদের মেরে সাগরে ফেলা হচ্ছে। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে কখন কি হয়। মনে হচ্ছিলো আর বুঝি বাড়ি ফিরতে পারবো না। আর কি মা বাবার মুখ দেখতে পারবো? ভুলে যাই পৃথিবীর সবকিছু। একটাই প্রশ্ন মনে, বাঁচবো তো? বলতে গেলে যমের হাত থেকে ফিরে এসেছি।

কথাগুলো বলছিলেন, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বাসিন্দা সিপার আহমেদ ও জায়েদুর রহমান। তারা উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের ব্যবসায়ী তুতা মিয়া ও রফিক মিয়ার সন্তান। চার মাস আগের কথা। উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের সোবহান নুরী নামের এক দালালের সঙ্গে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকার চুক্তিতে তারা ইতালি যাবার সিদ্ধান্ত নেন। কথা ছিল সেই দালাল তাদের ইতালি পৌঁছাবে।

দালালের কথা মতোই ১৯শে ফেব্রুয়ারি তারা যাত্রা শুরু করে। তাদের সহযোগিতা করেন ঢাকার ফকিরাপুলের মতিন মিয়া নামের এক ট্রাভেলস এজেন্সির মালিক। মতিন মিয়া তাদের দুটি কাগজ দেন। একটি কাগজ বোডিং পাস আর আরেকটি ইমিগ্রেশন পাসের জন্য। কথা মতো তারা একটি কাগজ বোডিং পাসে এবং আরেকটি কাগজ ইমিগ্রেশনে দেখান। মতিন মিয়া তাদের বলেন, তারা দুবাইয়ে যাবার পর আরো কিছু কাগজ সেখান থেকে দেয়া হবে। পরে সেদিনই তারা রওয়ানা হোন দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে।

দুবাইয়ে যাবার পর তাদের মোবাইলে আরো দুটি কাগজ দেয়া হয়। সেই কাগজ দিয়ে তারা তুরস্কের ইস্তামবুল পৌঁছান। সেখানে তাদের রিসিভ করেন এক দালাল। সেই দালাল তাদের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। মালবাহী বড় বড় ভ্যানের পেছনে গাদাগাদি করে ঘুম পাড়িয়ে তাদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেয়া হতো। ইস্তামবুলের একটি অন্ধকার ঘরে তাদের রাখা হয়। সেখানে বিভিন্ন দেশের আরো অনেক লোক ছিল। কোনো পাসপোর্ট নেই। ভিসা ছিল না। কিন্তু তারা দালালদের কারণে ঠিকই এক দেশ থেকে অন্য দেশে পৌঁছান।

তুর্কি পৌঁছানোর পর তাদেরকে রিসিভ করে আরেক দালাল। সেখানে কিছু দিন থাকার পর আবার তাদেরকে পাঠানো হয় লিবিয়া।  লিবিয়া যাওয়ার পর শুরু হয় আসল চিত্র। সেখানকার সেই করুণ চিত্র তুলে ধরেন সিপার এবং জায়েদ। তারা জানায়, লিবিয়ার মানব পাচারের ভয়ঙ্কর একাধিক চক্র কাজ করছে। তারা বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপ যেতে আগ্রহী লোকদের টার্গেট করে। তারা জানায় লিবিয়ায় তাদেরকে বাà¦