বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


একজন হিন্দুস্তানি সাহাবি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

নাসিম মুমতাজী
তরুণ লেখক ও প্রাবন্ধিক

আমরা সকলেই অবগত আছি, হিন্দুস্তানের পবিত্র ভূমিতে সাহাবায়ে কেরাম রা. এর পদধূলি পড়েছিলো। নবী করীম [সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর এর দর্শন ও সান্নিধ্যলাভে ধন্য বুযুর্গদের সুভাগমন ঘটেছিলো।

বাংলাদেশের খুলনা শহরে তো খোদ হুজুর স. এর জীবদ্দশায়ই (এমনকি মদীনাতে হিজরত করার পূর্বেই) সাহাবায়ে কেরাম রা. দ্বীনের দ্বীপ্ত মশালহাতে ছুটে এসেছিলেন

শুধু কি তাই! খুলনা শহরের 'খুলনা' নামটাও তাঁদের কথোপকথন থেকে রাখা হয়েছে। কিন্তু, এ উপমহাদেশে জন্ম, এখানেই বেড়ে ওঠা; যাঁর শৈশব-কৈশোর-যৌবন কেটেছে এ মাটিতেই যিনি ধর্মগত দিক দিয়ে হিন্দু ধর্মানুসারী ছিলেন পরবর্তীতে ইসলামরবির উদয়স্থল পবিত্র 'মক্কা' নগরীতে গিয়ে ইসলামগ্রহণ করে হুজুর স. এর বরকতময় সান্নিধ্যলাভে ধন্য হয়ে সাহাবা হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন, এমন ভাগ্যবান মানুষের কথা কমই জানি।

তাই আসুন! ফিরে যাই ইতিহাসের পাতায়। দৃষ্টি বুলিয়ে দেখি কে ছিলেন তিনি? কোথায় ছিলো তাঁর নিবাস? কী ছিলো তাঁর পেশা? আর কী কারণেই বা তিনি ইসলামের সুমিষ্ট 'অমৃত' পান করলেন?

জয়নুদ্দীন' একজন মুসলিম ইতিহাসবিদ। তাঁর রচিত একটি ইতিহাসগ্রন্থ হলো 'তুহফাতুল মুজাহিদীন'। সে গ্রন্থে একজন হিন্দুরাজার মক্কাগমন ও হযরত মুহাম্মদ স. এর নিকট উপস্থিত হওয়া এবং স্বেচ্ছায় ইসলামগ্রহণের প্রদত্ত বিবরণ পাওয়া যায়।

সে গ্রন্থে এটাও পাওয়া যায় যে রাজা কিছুকাল হযরত মুহাম্মদ স. এর নিকট অবস্থান করে প্রত্যাবর্তনের সময় 'শহর' নামক স্থানে পরলোকগমন করেন।

এর দ্বারা বুঝা গেলো, তিনি একজন রাজা ছিলেন। কিন্তু এগ্রন্থে তার নাম বা বংশপরিচয় কিছুই দেওয়া হয়নি। তবে একই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে 'বিশ্বকোষ'- এর উদ্বৃতি দিয়ে 'আল্লামা গোলাম আহমদ মোর্তজা' লিখেছেন, পরাবৃত্ত পাঠে জানা যায় যে 'চেরর' রাজ্যের (ভারতের) শেষ রাজা 'চেরুমল পেরুমল' ইচ্ছা করিয়া সিংহাসন পরিত্যাগ করিয়া মুসলমানধর্ম গ্রহণঅভিলাষে মক্কানগরী গমন করেন। (সূত্র: বিশ্বকোষ, ইতিহাসের ইতিহাস)

এছাড়াও বর্তমান বঙ্গের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ, ভারতপর্যটক, বিশ্বকোষ- এর সম্পাদক 'শ্রী সুরজিৎ দাসগুপ্ত' তার 'ভারতবর্ষ ও ইসলাম" গ্রন্থে আরো পরিষ্কার ও স্পষ্টভাবে লিখেছেন, মালাবার (বর্তমান ভারতের মাদ্রাজ বা তামিলনাড়ু প্রদেশের একটি জেলার নাম, যার পূর্বনাম ছিলো 'চেরর') রাজাদের মধ্যে 'চেরুমল পেরুমল'ই প্রথম ইসলামধর্ম গ্রহণ করেন।

তিনি ছিলেন 'পেরুমল' বংশীয় শেষরাজা। শুধু নিজে ধর্মান্তরিত হয়েই চেরুমল পেরুমল ক্ষান্ত হননি, প্রজাদের মধ্যে ইসলামধর্ম প্রচারে তিনি সচেষ্ট হন। তবে যেদিক থেকেই দà§