বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮


কে এই মৃণাল হক? কী তার উদ্দেশ্য?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

এএসএম মাহমুদ হাসান

বাংলাদেশে বিভিন্ন ভাস্কর্য বা মূর্তি নির্মাতার প্রধান পরিকল্পক মৃণাল হক। ঢাকা শহর ও দেশের বিভিন্ন ভার্সিটিতে বিভিন্ন সময় তিনি বিভিন্ন মূর্তি নির্মাণ করেছেন। ২০০২ সালে মৃণাল হক আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এই বছর তিনি নিজ উদ্যোগে নির্মাণ করেন মতিঝিলের বক ভাস্কর্যটি। ২০০৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নির্মিত গোল্ডেন জুবুলি টওয়ার তারই শিল্পকর্ম। রাজারবাগ পুলিশ লাইনে নির্মিত দুর্জয় ভাস্কর্যসহ সর্বশেষ সুপ্রিম কোর্টের সামনে নির্মিত কথিত ন্যায় বিচারের প্রতীক জাস্টিসিয়া (গ্রীক দেবী) তারই শিল্পকর্ম।

সুপ্রীম কোর্টের মূর্তি নির্মাতা মৃণাল হক বলেছেন, ‘সব কিছুকে মূর্তি বলে তা সরানোর দাবি মেনে নেয়াটা হবে আত্মসমর্পণ। এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী । এরকম দাবি মেনে নিলে দেশে থাকার মতো পরিবেশ থাকবে না।’

বাস্তবতা হলো মৃণাল হক দেশেই থাকেন না। পরিবার নিয়ে তিনি আমেরিকায় বসবাসের স্থায়ী সুযোগ পেয়েছেন। আমেরিকার বাসিন্দা হয়েছেন ১৯৯৫ সালে। তার স্ত্রী নাসরিন হক এবং পুত্র সৈকত হককে নিয়ে আমেরিকাতেই থাকেন।

১৯৯৫ সালে আমেরিকায় যাওয়ার পর মৃণাল হক খোদ মার্কিন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হন। নিউইয়র্কের সরকারি টিভিতে তার এক সাক্ষাৎকার ২৬ বার এবং মার্কিন সরকারি চ্যানেল সিএনএন –এ ১৮ বার প্রচার করে। এরপর তিনি ২০০২ সালে বাংলাদেশে এসে নিজ শিল্পকর্ম সম্প্রসারণে মোড়ে মোড়ে, বিভিন্ন স্থাপনায় নির্মাণ করছেন বিতর্কিত ভাস্কর্য।

মৃণাল হকের জন্ম ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৫৮ সালে রাজশাহীতে। ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢারুকলা ইন্সটিটিউট ভর্তি হন। ১৯৮৪ সালে তিনি মাস্টার্র সম্পন্ন করেন।

সূত্র মতে, মৃণাল হক আমেরিকাতেই থাকেন, তবে বাংলাদেশে মূর্তি বানানোর জন্য মাঝে মাঝে আসেন। প্রত্যেকটি মূর্তি তৈরিতে সরকার দফতর থেকে তিনি মোটা অংকের টাকা পান। একটি মূর্তি বানাতে সর্বোচ্চ খরচ হয় ৫-১০ লক্ষ টাকা। কিন্তু বিল করেন দেড়-দুই কোটি টাকা। এসব নিয়ে কখনো প্রশ্ন ওঠেনি। কারণ তিনি যাই করেন সেগুলোকে মুক্তিযুদ্ধের নাম দেন। তাই এবিষয়ে কারো প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকে না।

কিন্তু এখন এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের অতি বাগাড়ম্বরে কলুষিত হতে চলছে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ঘোষিত স্বাধীনতা যুদ্ধের ৬ দফায় মূর্তি স্থাপনের কোনো দফা বা ইঙ্গিত না থকলেও বর্তমান মতান্ধ সেক্যুলারপন্থীরা ভাস্কর্যকে মুক্তিযুদ্ধ