আদনান ফয়সাল
আমাদের অনেকেরই ধারণা আল্লাহর কাছে খুব বেশী চাওয়া যাবে না, কম কম চাইতে হবে, যাতে আল্লাহ্ অল্প চাওয়ার সবগুলোই দেয়। ধারণাটি সম্পূর্নই ভুল। বরং, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, দু’আ হলো ইবাদতের মেরুদণ্ড (তিরমিযী)। তিনি বেশী বেশী করে দু’আ করতে বলেছেন। আল্লাহ্ তাকে অধিক ভালবাসেন, যে তাঁর কাছে অধিক দু’আ করে। রাসূলুল্লাহ সা. আরও বলেছেন, তোমাদের জুতার ফিতা ছিড়ে গেলে তার জন্যও দু’আ কর (তিরমিযী)। অর্থাৎ, যত ছোট বিষয়ই হোক না কেন, সব কিছু নিয়েই দু’আ করা যাবে।
আল্লাহ্ কেন দু’আকারীকে ভালবাসেন? কারন, আল্লাহ্ ও বান্দার প্রকৃত সম্পর্ক দু’আর মাধ্যমেই প্রমানিত হয়। আল্লাহ্ আর-রাহমান, আর-রাহীম, পরম করুনাময়, অসীম দয়ালু, আল্লাহ্ আস-সামি’, আল-ক্বাদির, তিনি শ্রোতা, তিনিই কর্তা, আল্লাহ্ আস-সামাদ, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, তার কোন চাহিদা নেই। অন্যদিকে, আমরা মানুষেরা আল্লাহর বান্দা, আল্লাহর দাস, আমরা আল্লাহর কাছে মুখাপেক্ষী, তিনি না দিলে আমরা অসহায়।
দু’আর মাধ্যমে একজন বান্দা আল্লাহর গুণবাচক নামগুলোর প্রতি তার বিশ্বাসই প্রমাণ করে। যখন কোন বান্দা আল্লাহর কাছে দু’আ করতে হাত তুলে, তখন আল্লাহ্ তা খালি হাতে ফেরত দিতে লজ্জাবোধ করেন (আবু দাউদ), ঠিক যেভাবে কোন ভিক্ষুক হাত পাতলে আমরা তাকে খালি হাতে ফেরাতে লজ্জা পাই।
তিরমিযী শরীফের হাদিসে আছে, বান্দার কোন দু’আই ব্যর্থ হয় না। আল্লাহ্ যদি তার দু’আ না-ও কবুল করেন তবুও বান্দা লাভবান হয়, কারণ দু’আ করার জন্য সে সাওয়াব পায়। এই কথা শুনে সাহাবীরা বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সা. আমরা এখন থেকে বেশী বেশী দু’আ করব। রাসূলুল্লাহ সা. উত্তরে বললেনঃ আল্লাহ্ (দিতে পারেন) তার চেয়েও বেশী।
হাদিসে কুদসীতে আছে, “সমগ্র মানবজাতি এবং জ্বীনজাতি, মুসলমান ও কাফিরেরা, যদি একত্রে আল্লাহর কাছে দু’আ করা শুরু করে এবং তাদের যত চাহিদা আছে সব একত্রে চাইতে থাকে, তা-ও তা আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার কাছে সমুদ্রের বুকে এক ফোঁটা পানি তুল্য”। কারণ হল, আমাদের চাওয়ার ক্ষমা সীমিত, কিন্তু আল্লাহর দেওয়ার ক্ষমতা অসীম।
আমরা অনেকেই আরেকটা ভুল করি, যেটা হল আমরা শুধু বিপদে পড়লেই আল্লাহর কাছে দু’আ করি। কিন্তু, এটা ফাসেক, মুনাফিক ও কাফিরের লক্ষন। মানুষের এই আচরণটি যে আল্লাহ্ অপছন্দ করেন, তা তিনি মহাগ্রন্থ কোরআনে বহুবার উল্লেখ করেছেন। মু’মিন বান্দা ভাল-মন্দ সর্বাবস্থায় আল্লাহর কাছে দু’আ করেন। আল্লাহ্ ‘আযযাওয়াজাল মহাগ্রন্থ কোরআনে বলেà