মুফতি শাহাদাত হোসাইন
বিশ্বে এখন দাবড়ে বেড়াচ্ছে দানবেরা। কেঁদে মরছে মানবতা। মানবতা ও মানবাধিকার কী তাও আজ অস্পষ্ট হয়ে ওঠছে স্লোগাননির্ভর মানবতার দৌড়ঝাপ দেখে। ভুলে যাচ্ছে মহামানবের মানবতার সবক। ফাঁকা আওয়াজে নয়, প্রকৃত মানবতা চর্চার মাধ্যমেই বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে মানবতা। আর সেই মানবতাই ইসলামের নবি দুনিয়ার বুকে প্রথম পূর্ণাঙ্গ রূপে প্রতিষ্ঠিত করে গিয়েছেন।
ইসলাম জাতি,ধর্ম,বর্ন নির্বিশেষে সকলের জন্য যে, অধিকার রচনা করেছে অন্য কোন জাতি ও ধর্ম তার দৃষ্টান্ত প্রদর্শনে আজও অপারগ।মুহাম্মাদ স. দুনিয়ার বুকে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মদিনায় গিয়ে প্রথমেই সেখানের সকল ধর্ম ও বর্ণের লোকদের সমন্বয়ে একটি ঐতিহাসিক সনদ রচনা করেন।যার মধ্যে সকল ধর্মের মানুষের জন্য ন্যায্য অধিকার সংরক্ষিত ছিল।
মানবাধিকারের মধ্যে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি আসে তা হলো,জীবনের নিরাপত্তা অধিকার ।দুনিয়ার প্রতিটি মানুষের বেচেঁ থাকার অধিকার রয়েছে।ইসলাম দুনিয়ার কোন মানুষকে অন্যের জীবন হরণ করার ঠিকাদারি দেয়নি।মানব জীবনের নিরাপত্তা দিয়ে পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করা হচ্ছে,আল্লাহ তা’আলা যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া তোমরা তাকে হত্যা করোনা।আনআমঃ১৫১
মহানবি (স) ও সাহাবাগণ সারা জীবন এর উপর পূর্ণাঙ্গ অটল ও অনড় ছিলেন। বিনা কারণে কোন মুসলমানকে হত্যা করা যেমন হারাম তেমনিভাবে এমন কোন অমুসলিমকেও হত্যা করা হারাম;যে কোন ইসলামি দেশের প্রচলিত আইন মান্য করে বসবাস করে।রাসূল(স) বলেন,যে ব্যক্তি কোন যিম্মি অমুসলিমকে হত্যা করে,সে আল্লাহর অঙ্গীকার ভঙ্গ করে। আর যে আল্লাহর অঙ্গীকার ভঙ্গ করে,সে জান্নাতের গন্ধ ও পাবেনা।তিরমিযী।
রাসূল (স) অমুসলিমদের সাথে যুদ্ধকালীন সময়ও নারী শিশু ও বৃদ্ধের উপর হাত তুলতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছিলেন। আর সাহাবাগণ ও তাঁর এই হুকুমকে যথাযথ পালন করেছেন।
জীবনের নিরাপত্তার পরে-ই মানুষের যে অধিকার আসে তা হলো,সম্পদের নিরাপত্তা অধিকার।ইসলাম মানুষের সম্পদের পরিপূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে ঘোষণা করেছে,তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করো না। আল বাকারাঃ১৮৮
মানুষ বৈধভাবে যে কোন অর্থ সম্পদের মালিক হতে পারে। সে তার সম্পদ বৈধভাবে যেভাবে খুশি ব্যবহার করতে পারে।ঋণ দিবে-নিবে,পরিবার-পরিজনের জন্য খরচ করবে।এতে তাকে কোন বাধা প্রদাণ করা হবে না।রাসূল(স) নিজে কখনো অন্যের সম্পদে হকতালাফি করেন নাই আবার কোন অসহায়-মাজলুমের সম্পদ কোন জালেম হরণ করতে চাইলে,রাসূলের নিকট সেই সংবাদ আসলে তিনি তার অধিকার উক্ত জালেম থেকে নিয়ে দিতেন।বর্তমান দুনিয়ায় যারা মানবাধিকারের স্লোগান দেয়। অন্যের জান-মালের নিরাপত্তার অধিকার নিয়ে কথা à