বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


মায়ের সন্তুষ্টিতেই সন্তানের সফলতা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি দিদার শফিক

muslim_motherএকটি পরিবার গড়ে ওঠে বাবা-মায়ের হাত ধরে। সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যান বাবা-মা। বাবা দেন অর্থের জোগান। মা সামলান ঘর। সন্তানের লালন-পালনে মায়ের ভূমিকা অনেক বেশি। কিন্তু সমাজচিত্রে দেখা যায় ‘মা’ খুব অবহেলিত হন পরিবারে।ইসলাম মাকে যথার্থ সম্মান দিয়েছে। দিয়েছে তার অধিকার। সন্তানের প্রতি মায়ের কোমল স্বভাব মায়ের অফুরন্ত ভালবাসার নিদর্শন। এ কোমলতাকে অনেক সন্তান যথার্থ মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়। মা যেন অবহেলিত না হন, মায়ের অধিকার যেন রক্ষিত হয় সে লক্ষ্যে নবি সা. বলেছেন, ‘হজরত আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল 'ইয়া রসুলুল্লাহ! আমি সর্বাগ্রে কার সঙ্গে সদাচরণ করব? রসুল সা. বলেন, তোমার মায়ের সঙ্গে। লোকটি প্রশ্ন করল, তারপর? উত্তর এলো তোমার মা। লোকটি আবার জানতে চাইল অতঃপর কে? রসুল সা. এবারও জবাব দিলেন তোমার মা। ওই লোক চতুর্থবার একই প্রশ্ন করলে রসুল সা. বলেন, তোমার পিতা। ' বোখারি ও মুসলিম

সন্তান মায়ের তুষ্টির সেবাদাস।মায়ের তুষ্টিতেই সন্তানের দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা। যার প্রতি মা সন্তুষ্ট তার দুনিয়া ও আখেরাত উজ্জ্বল। মায়ের তুষ্টি-অতুষ্টির উপর নির্ভর করে সন্তানের ভবিষ্যৎ। তাই নবি সা. বলেছেন,‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত।’

মায়ের অবাধ্য সন্তানকে আখিরাতে কঠিন জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। আলকামা নামক এক সাহাবি মৃত্যুমুখে পতিত। মৃত্যু- মুহূর্তে তার মুখ দিয়ে কালেমা বের হচ্ছে না। খবর পেয়ে রসুলুল্লাহ এলেন এবং তিনি আলকামার মাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি পুত্রের ওপর অসন্তুষ্ট? উত্তরে তিনি বললেন, ইয়া রসুলুল্লাহ! আমার ছেলে আমার চেয়ে তার স্ত্রীকে বেশি গুরুত্ব দিত। এ কারণে আমি তার প্রতি অসন্তুষ্ট। তখন রসুলুল্লাহআদেশ দিলেন, আলকামাকে আগুনে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ভস্ম করে দাও। আলকামার মা এ কথা শুনে হাউমাউ করে কান্নাকরে চিৎকার দিয়ে বললেন, ইয়া রসুলুল্লাহ!

আমার চোখের সামনে আমার সন্তানকে আগুনে জ্বালিয়ে দিলে আমি মা হয়ে কীভাবে তা সহ্য করব? রসুলুল্লাহ তখন আলকামার মাকে অনুরোধ করলেন, তাহলে আপনার সন্তানকে ক্ষমা করে দিন। তা না হলে চিরকাল সে জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে। তা আপনি কী করে সহ্য করবেন? একথা শুনে মায়ের মন নরম হয়ে গেল, তিনি সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা করে দিলেন। তারপর আলকামার জবান থেকে কালেমা তাইয়্যেবা জারি হয়ে গেল এবং কালেমা পড়তে পড়তে ইমানের সঙ্গে আলকামা মৃত্যুবরণ করলেন।

মা অসন্তুষ্ট হলে সন্তানের আখেরাতের শান্তি অনিশ্চিত হয়ে যায় হাদিস থেকে এটাই স্পষ্ট হয়েà