এম মাহমুদ খান : সময়টা ছিলো ২০০২ সাল। রমজান মাস। সবেমাত্র ইউনিভার্সিটির পাঠ গুটিয়েছি। জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি জমানোর উদ্দেশ্যে। প্রস্তুতিও শেষ। এখন শুধু যাবার পালা। শেষ মুহূর্তে মায়ের আকুতি, ‘ঈদের মাত্র আর এক সপ্তাহ বাকি। ঈদটা করে গেলে হয় না বাবা?
মা, ভাই -বোন, ভাতিজা-ভাগ্নিদের আকুতি। বিয়োগ বেদনার কান্না। কিন্তু, আমি নিরুপায়। বিমানের টিকেট কনফার্ম। রাতেই ফ্লাইট। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করলাম। মনটাকে শক্ত করলাম।
মাগরিবের আজান হলো। বাসায় আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ইফতার করলাম। মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করলাম। বাসায় এসে সর্বশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করলাম। পাসপোর্ট, টিকেট, লাগেজ ইত্যাদি গোছালাম।
এশার সময় হলো। মসজিদে গেলাম। নামাজ শেষ করলাম। বাসায় আসলাম।
চোখ ভরা অশ্রু নিয়ে আপন নীড় ছাড়লাম। কষ্টে হৃদয়টা ফেটে যাচ্ছিলো। তারপরও, ছাড়তে হবে। মায়ের কোল ছেড়ে দূর দেশে পাড়ি জমাতে হবে।
রওয়ানা দিলাম। একপর্যায়ে এয়ারপোর্টে পৌঁছলাম। তারপর বিমান বন্দরের নানান ফর্মালিটি শেষ করলাম। বিমানে চড়লাম। আসন গ্রহণ করলাম। কিছুক্ষণ পরেই বিমান উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিলো।
বিমান আকাশে উড়ছে। সাথে আমার মনটাও পুড়ছে। বিমানের জানালা দিয়ে প্রিয় মাতৃভূমিকে দেখতে খুব ইচ্ছে করছিলো। যদি আর কোনোদিনও দেখা না হয়। এই আশংকায়। তবে, মনে এ আশাটুকুও ছিলো, ‘আবার আসবো ফিরে, এই বাংলার তীরে।’ জানালা দিয়ে তাকালাম। রাতের ঘোর অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। চোখ দুটো বন্ধ করলাম। আসনে হেলান দিলাম।
গভীর রাত। ক্লান্ত শরীর। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, টেরও পাইনি। হঠাৎ মনে হলো, কে যেনো আমায় ডাকছে। ‘স্যার! স্যার!! আপনি কি রোজা রাখবেন? সেহেরির সময় হয়েছে।’ চোখ মেললাম। দেখলাম, বিমানের কর্মকর্তা। বললাম, ‘জি! রাখবো।’
খাবার পরিবেশিত হলো। বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে। মনে মনে ভাবলাম, ‘আকাশ ভ্রমণে সেহেরি! মহান আল্লাহর দরবারে অশেষ শুকরিয়া। কৃতজ্ঞতা।’
দুবাই এয়ারপোর্টে পৌঁছলাম। এখানে দীর্ঘ ১১ ঘন্টার যাত্রা বিরতি হলো। এয়ারপোর্টের ট্রানজিট লাউঞ্জে খেজুর, জুস আর কেক দিয়ে অতি অল্প সময়ে ইফতার করলাম।
পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য ছুটলাম। নির্ধারিত ইথিওপিয়ান এর বিমানে চড়লাম। একপর্যায়ে আফ্রিকার ছোট্ট একটি দেশ বেনিন এর রাজধানী লোমে অবতরণ করলাম। অথচ, আমাদের গন্তব্যস্থল ছিলো ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে।
ভিসা জটিলতায় বেনিনে ৪ দিন অবস্থানের বদলে অবস্থান করতে হলো দীর্ঘ ১১ মাস! অমানবিক কষ্টগুলো সাদরে গ্রহ