রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দারুল উলুম দেওবন্দে সমবেত হচ্ছেন পাঁচ হাজার মাদরাসার প্রতিনিধি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযান, হেবরনে ঘরছাড়া ৩০০ পরিবার নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই বাড়তে পারে শীতের তীব্রতা  হজরত শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে ৮৮ লাখ টাকা, মিলল স্বর্ণ-বিদেশি মুদ্রা  নৈতিক সমাজ গঠনে মসজিদ-মাদ্রাসার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: হাবিবুর রশিদ  খুতবার মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান ধর্মমন্ত্রীর পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতায় আফগানিস্তানকে দায়ী করা বিভ্রান্তিকর: তালেবান মুখপাত্র আল-আকসার খতিবকে ধরে নিয়ে যাওয়ার নিন্দা জমিয়তের পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবি খেলাফত মজলিসের শতবর্ষী রেসকোর্স মসজিদের বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ পুনর্বহালে দিল্লি হাইকোর্টের ‘না’

জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি এখন খেলাফত মজলিসের প্রার্থী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৬ নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনে দলবদলের রাজনীতির জন্য আলোচিত-সমালোচিত গোলাম রব্বানী এবার বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনয়ন পেয়ে রিকশা প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির পর এ নিয়ে চতুর্থ দলে যোগ দিলেন তিনি। এ কারণে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে, নারী নির্যাতন ও ভূমি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সব নির্বাচনের আগেই গোলাম রব্বানী নতুন দলে যোগ দেন এবং যেখান থেকে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে সেখানেই অবস্থান নেন। ফলে তিনি ক্রমশ সাধারণ ভোটারদের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়ছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন গোলাম রব্বানী। ১৯৮৬ সালে তিনি কলমাকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেটে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হন।

২০০৬ সালে বিএনপিতে যোগদান করে তিনি বিএনপির মনোনয়ন পান। তবে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় তার রাজনৈতিক অবস্থানও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন চান। কিন্তু দল মনোনয়ন না দিলে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পার্টিতে পুনরায় যোগ দেন। ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারান। চলতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি খেলাফত মজলিস থেকে রিকশা প্রতীকে মনোনীত হয়েছেন। এই মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় আলেম-ওলামাদের একাংশের মধ্যেও অসন্তোষ ও তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টির এই নেতাকে জনগণ মেনে নিচ্ছে না।

রংছাতি ইউনিয়নের সাইফুল ইসলাম বলেন, গোলাম রব্বানী আমাদের জমি দখলের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছে। আওয়ামী লীগের আমলে তিনি জাতীয় পার্টি করার সুবাদে আমাদের জমি ও বাড়ি দখলের জন্য হামলা চালিয়েছিলেন।

স্থানীয় আলেম হাফেজ দেলোয়ার হোসেন বলেন, একসময় আমি খেলাফত মজলিসে ছিলাম। গোলাম রব্বানীর মতো পল্টিবাজ লোক যখন খেলাফত মজলিসের মনোনয়ন পেয়েছে তখন আমি ঐ দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি।

জাতীয় পার্টির আরেক নেতা ফরিদ মিয়া বলেন, গোলাম রব্বানী আসলেই পল্টিবাজ নেতা, সে আজ এই দলে কাল অন্য দলে। এখন আবার আলেমদের উপর চেপে বসেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম রব্বানী বলেন, আমি অরিজিনিয়ালি জাতীয় পার্টির লোক। জাতীয় পার্টি থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম, এমপি হয়েছিলাম।

ওবায়দুল কাদেরের প্রসঙ্গ নিয়ে বললেন, উনি পড়াশোনার সুবাদে আমার পরিচিত ছিলেন। এখন খেলাফত মজলিসে আছি, আলেম-ওলামাদের সাথে থাকতে চাই।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ