রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দারুল উলুম দেওবন্দে সমবেত হচ্ছেন পাঁচ হাজার মাদরাসার প্রতিনিধি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযান, হেবরনে ঘরছাড়া ৩০০ পরিবার নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই বাড়তে পারে শীতের তীব্রতা  হজরত শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে ৮৮ লাখ টাকা, মিলল স্বর্ণ-বিদেশি মুদ্রা  নৈতিক সমাজ গঠনে মসজিদ-মাদ্রাসার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: হাবিবুর রশিদ  খুতবার মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান ধর্মমন্ত্রীর পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতায় আফগানিস্তানকে দায়ী করা বিভ্রান্তিকর: তালেবান মুখপাত্র আল-আকসার খতিবকে ধরে নিয়ে যাওয়ার নিন্দা জমিয়তের পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবি খেলাফত মজলিসের শতবর্ষী রেসকোর্স মসজিদের বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ পুনর্বহালে দিল্লি হাইকোর্টের ‘না’

কুরবানির চামড়া তাহসিলের প্রচলিত পদ্ধতি সংস্কার করা উচিত


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| নাঈম আবু বকর ||

বেশ কিছু কারণে কুরবানির চামড়া তাহসিলের প্রচলিত পদ্ধতি সংস্কার করা উচিত-

১। কুরবানির চামড়া একটি উচ্ছিষ্ট। আপনি লক্ষ করলে দেখবেন- গরুর গোশত তাহসিল করার চেয়েও চামড়া তাহসিল অধিক লজ্জাজনক মনে হয়। কারণটা মনস্তাত্ত্বিক। কারণ, গোশত গরুর মূল অংশ আর চামড়া তার উচ্ছিষ্টের মতো।

ফলে, একজন ছাত্র যখন চামড়া কালেকশন করতে যায়, তখন মনে হয় যেন সে ‘ঝুটা টোকাতে’ এসেছে। ফলে মানুষ তাকে যথেষ্ট হেয় দৃষ্টিতে দেখে।

২। চামড়া পড়ে থাকে ময়লায়। রক্ত ও বর্জ্যে মাখামাখি হয়ে। বাড়ির লোকেরা ভেতরে গোশত কাটাকাটিতে ব্যস্ত থাকে। মাদরাসার ছাত্র গেইটে দাঁড়ালে ভেতর থেকে বলে দেওয়া হয়, ‘ওই যে চামড়া, নিয়া যান হুজুর’।

ছাত্রটি তখন রক্তমাখা ময়লা চামড়াটি নিজ কাপড় গুটিয়ে কোনো রকমে বহন করে নিয়ে আসে। তারপরও শরীর ও কাপড় ময়লা হয়। এভাবে চামড়া বহন করতে স্বয়ং বাড়ির মালিকও রাজি হবে না। এভাবেও ছাত্রটি তাদের চোখে হেয় হয়ে পড়ে।

৩। কাজটা হয় ঈদের দিন। মালিকেরা সবাই থাকে ব্যস্ত। ব্যস্ততার ভেতর ছাত্ররা যখন গেইটে যায়, অনেক সময়ই মালিক খুঁজে পাওয়া যায় না। অনেক বাড়ির গেইটও থাকে বন্ধ। তখন বাড়ির মালিকে অপেক্ষায় যেভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় কিংবা গেইটে নক করতে হয়, তা মোটেই সম্মানজনক নয়।

৪। ছাত্ররা সাধারণত কালেকশনের এলাকায় সম্পূর্ণ আজনবি হয়ে থাকে। সারা বছরে একদিনই তারা চামড়ার জন্য সেখানে প্রবেশ করে। স্থানীয় পরিবারগুলোর সন্তানেরা কালেকশন করলে যে দৃশ্য তৈরি হতো, এক্ষেত্রে তা হয় না। ঈদের দিন পথেঘাটে ছাত্র দেখলেই মানুষ মনে মনে ভাবে, ‘ও, চামড়া নিতে আসছে’। এটিও সম্মানজনক মনোভাব নয়।

এমন নানা কারণে ব্যবস্থাটি অসম্মানজনক। দায়িত্বশীল মহল চাইলে এতে সংস্কার আনতে পারেন। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মতো ক্যাম্প-পদ্ধতি করতে পারেন, যেখানে মানুষ নিজ দায়িত্বে চামড়া পৌঁছে দেবে। অথবা সকল চামড়া একক নিয়ন্ত্রণে গ্রহণ করে গরিব মাদরাসাগুলোতে বণ্টন করে দিতে পারেন।

যেভাবেই হোক, এই ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি। প্রতি বছর তালিবে ইলমদের অসম্মানজনক পরিস্থিতি দেখলে খুবই কষ্ট হয়। আল্লাহ বিকল্প ব্যবস্থা করে দিন।

লেখক: মাদরাসা শিক্ষক, লেখক ও খতিব

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ