সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
নবীন আলেমদের নিয়ে ‘দাওয়াহ, লেখালেখি ও সাংবাদিকতা’ কর্মশালা ভারতে মুসলিম যুবক হত্যা ও বাংলাদেশ মিশন ঘেরাওয়ের নিন্দা নেজামে ইসলাম পার্টির আস-সুন্নাহ কোর্সের শিক্ষার্থীদের ব্যবসায়ী সাফল্য তুলে ধরলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ ‘ইখলাস ও সুন্নাহর অনুসরণ ছাড়া আমল পূর্ণাঙ্গ হয় না’ ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ২ হাজার ৮৯ সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণে ওমরা পালনে যাচ্ছেন ৩০ বাংলাদেশি হাম-রুবেলা নিয়ন্ত্রণে ইমাম-খতিবদের সহযোগিতা চায় সরকার ৯০ দিন জামাতে নামাজ, ৩২ শিশু-কিশোর পেল বাইসাইকেল ঢাবিকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সারিতে নেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির অনুতাপে অশ্রু

‘ইখলাস ও সুন্নাহর অনুসরণ ছাড়া আমল পূর্ণাঙ্গ হয় না’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক

আমল কবুলের জন্য ইখলাস ও শরিয়তসম্মত হওয়া—দুটিই জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট আলেম লেখক মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, আমল ইখলাসের সঙ্গে হলেও সঠিক পদ্ধতিতে না হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। আবার আমল সঠিক হলেও ইখলাস না থাকলে সেটিও আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আমল হতে হবে একইসঙ্গে সঠিক ও ইখলাসপূর্ণ।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরার সেক্টর ১৬-এর বাইতুন নূর জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত এক এসলাহি মজলিসে তিনি এসব কথা বলেন।

দ্বীনি ইলম অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, হাদিসে ‘তালাবুল ইলমি ফারিদাতুন আলা কুল্লি মুসলিম’—প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ইলম অন্বেষণ করা ফরজ বলা হয়েছে। তবে কুরআন-সুন্নাহর ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে শুধু সরাসরি অনুবাদ বা কিতাব পড়ে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ নয়। বিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত আলেমদের তত্ত্বাবধানে থেকে দ্বীনের বিধান জানা এবং তা জীবনে বাস্তবায়ন করা উচিত।

তিনি বলেন, শুধু কিতাবের বর্ণনা থেকে অনেক সময় কোনো বিধানের পূর্ণাঙ্গ রূপ ও বাস্তব প্রয়োগ বোঝা সম্ভব হয় না। এ জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে মানুষের জন্য বাস্তব আদর্শ বা উসওয়া হিসেবে পাঠানো হয়েছে। সাহাবা, তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীদের মাধ্যমে দ্বীনের ব্যবহারিক রূপ ও আমলের ধারাবাহিকতা সংরক্ষিত হয়েছে।

সুন্নাহর অনুসরণের বিষয়ে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ও আমল অনুকরণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ের স্তর বুঝতে হবে। কোনো বিষয় ওয়াজিব, কোনোটি সাধারণ সুন্নাহ, আবার কোনোটি তাঁর ব্যক্তিগত বা অভ্যাসগত বিষয়। ভালোবাসার কারণে এসব অভ্যাস অনুসরণ করা উত্তম হলেও সেগুলোকে শরিয়তের আবশ্যক সুন্নাহর সমপর্যায়ে নিয়ে যাওয়া ঠিক নয়।

তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির নিজস্ব আমল বা পোশাক-পরিচ্ছদকে তাকওয়ার মাপকাঠি বানিয়ে অন্যকে হেয় করা এবং নিজেকে বেশি পরহেজগার মনে করা দ্বীনি বিচ্যুতির কারণ হতে পারে। দ্বীনের ক্ষেত্রে মনগড়া ব্যাখ্যা বা নিজস্ব গবেষণার নামে বিচ্যুত না হয়ে সালাফে সালেহীন ও বিশ্বস্ত আলেমদের নির্দেশিত পদ্ধতির অনুসরণ করা জরুরি।

দাড়ির বিষয়ে তিনি বলেন, দাড়ি রাখা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিছক সামাজিক রীতি নয়; বরং এটি তাঁর সুস্পষ্ট নির্দেশ দ্বারা প্রমাণিত ওয়াজিব সুন্নাহ। গোঁফ ছোট করা ও দাড়ি লম্বা রাখার বিষয়ে হাদিসে নির্দেশনা রয়েছে। সাহাবায়ে কেরামের আমল থেকেও এক মুষ্টি পরিমাণ দাড়ি রাখার বিষয়টি প্রমাণিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পোশাক-পরিচ্ছদের বিষয়ে তিনি বলেন, টাখনুর নিচে কাপড় পরা থেকে বিরত থাকা জরুরি। পায়জামা, প্যান্ট বা জুব্বা—যে পোশাকই হোক, তা টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরা থেকে সতর্ক থাকতে হবে। নামাজে পূর্ণাঙ্গ পোশাক ও টুপি পরা সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে চলে আসা সুন্নাহ ও আদব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নামাজের পোশাক প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, প্যান্ট ও টি-শার্ট পরে নামাজ আদায় করলে অনেক সময় শরীরের গঠন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ কারণে নামাজে ঢিলেঢালা ও পূর্ণাঙ্গ পোশাক পরিধান করা বাঞ্ছনীয়। পাঞ্জাবি-পায়জামা ও টুপি পরিধান করে নামাজ আদায় করাকে তিনি অধিক উপযোগী বলে উল্লেখ করেন।

বয়ানে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চালচলন, আদব-আখলাক ও জীবনাচরণের অনুসরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। এ প্রসঙ্গে সাহাবি হজরত হুযাইফা (রা.)-এর কাছে তাবেয়ী আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজিদের রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে চালচলন ও আচার-আচরণে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যক্তির সন্ধান চাওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন। হজরত হুযাইফা (রা.) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর নাম উল্লেখ করেছিলেন বলে তিনি জানান।

মাওলানা যাকারিয়া আব্দুল্লাহ বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ও নেককার বান্দাদের জীবনাচরণ থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের জীবন গড়ে তোলাই একজন মুমিনের জন্য কল্যাণের পথ। ইলম, আমল, ইখলাস ও সুন্নাহর অনুসরণের সমন্বয়েই দ্বীনি জীবন পরিপূর্ণতা লাভ করে।

অনুলিখন: আবু সুফিয়ান

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ