আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আঞ্চলিক জলসীমায় দুটি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর মার্কিন বাহিনী তিনটি ইরানি অপরিশোধিত তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলোকে অচল করে দিয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
স্থানীয় সময় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, একটি বিমানবাহী রণতরী ও একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার সফলভাবে ইরানের একাধিক হামলা প্রতিহত করেছে এবং এতে কোনো মার্কিন সেনা আহত হয়নি।
সেন্টকমের বিবৃতি অনুসারে, মার্কিন বাহিনী ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে এম/টি ডাউনি এবং জাস্কের কাছে এম/টি স্টার্ক ১-কে স্থায়ীভাবে অচল করে দিয়েছে।
মার্কিন বাহিনী ওমান উপসাগরে একটি খালি জাহাজ এম/টি কাইলোর (যা নক্সেন নামেও পরিচিত) নাবিকদের জাহাজটি ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়ার পরপরই ধ্বংস করে দেয়।
সেন্টকম অভিযোগ করেছে যে, ট্যাংকারগুলো একটি “বহু বিলিয়ন ডলারের গোপন নেটওয়ার্কের” অংশ ছিল, যা আইআরজিসি এবং তার আঞ্চলিক প্রক্সিগুলোকে অর্থায়ন করতে ব্যবহৃত হতো।
সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, আইআরজিসির প্রতি আমাদের স্পষ্ট বার্তা, যদি তোমরা আমাদের দুটি জাহাজে গুলি চালাও, তবে আমরা তোমাদের তিনটি জাহাজ ধ্বংস করে এর চেয়েও বড় অর্থনৈতিক সংকট চাপিয়ে দেব।
তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, আমরা মার্কিন বাহিনীকে রক্ষা করতে প্রয়োজনে ইরানের সীমিত ও অরক্ষিত তেল বহর ধ্বংস করে দেব।
চলমান সংঘাতের মধ্য দিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় একটি নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তেহরান এই হামলাগুলোর জবাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
গত ১৮ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরান হরমুজ প্রণালীতে অবাধ নৌচলাচলসংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করলেও, এই কৌশলগত জলপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে গেছে।
সূত্র: সৌদি গেজেট
আইও/