রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৯ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরসঙ্গী হচ্ছেন হেফাজত নেতা মাওলানা ইসলামাবাদী মসজিদে নববীতে রওজা জিয়ারত: প্রবেশের আদব, সালাম ও দোয়ার পদ্ধতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে আগামী নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাম উপসর্গে প্রাণ গেল ৫ শিশুর  ওযু ছাড়া ছোট শিশুদের কুরআন স্পর্শে বাধা নেই, কী বলছে ফিকহ? ১ নভেম্বর খুলছে সেন্টমার্টিন, পর্যটক ভ্রমণে বাড়ছে আগ্রহ সৌদিতে এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার প্রায় ১৪ হাজার প্রবাসী বাবুই সেরা লেখক সম্মাননা পেলেন কবি মুনীরুল ইসলাম  জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের ১০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা ১৭ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ, পাঁচ বছরে হাফেজ হলেন ফিনল্যান্ডের তরুণ

জেরুজালেমে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এককাতারে আরব-মুসলিম দেশগুলো

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জেরুজালেম ও এর ইসলামি-খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোতে ইসরাইলের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও আগ্রাসনের ঘটনা নিয়মিতভাবে নথিভুক্ত করতে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরব ও মুসলিম দেশগুলো। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ইসরাইলের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মহলের সামনে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অনুষ্ঠিত এক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বৈঠকে জেরুজালেম বিষয়ক আরব মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি তুরস্ক, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, নতুন ব্যবস্থার আওতায় একটি বিশেষ গণমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জেরুজালেমে মুসল্লি ও উপাসনাকারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বিভিন্ন লঙ্ঘনের তথ্য-প্রমাণ নিয়মিতভাবে সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করা হবে। পরে সেগুলো আন্তর্জাতিক সংস্থা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ব জনমতের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অভিযোগ করেন, জেরুজালেমের ইসলামি ও খ্রিস্টান পরিচয় পরিবর্তনের লক্ষ্যে ইসরাইল পরিকল্পিত নীতি অনুসরণ করছে। তারা এসব পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে অবিলম্বে তা বন্ধে কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

ঘোষণায় আরও বলা হয়, পূর্ব জেরুজালেম দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং সেখানে ইসরাইলের কোনো সার্বভৌম অধিকার নেই। জেরুজালেমের আইনগত, ঐতিহাসিক ও জনমিতিক চরিত্র পরিবর্তনের সব ধরনের পদক্ষেপকে ‘অকার্যকর ও বাতিল’ বলে উল্লেখ করা হয়।

বৈঠকে আল-আকসা মসজিদ (আল-হারাম আল-শরিফ) প্রাঙ্গণে চরমপন্থী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ও সরকারি কর্মকর্তাদের ক্রমবর্ধমান অনুপ্রবেশের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। মন্ত্রীরা বলেন, এসব পদক্ষেপ আল-আকসার ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা পরিবর্তন এবং মসজিদে সময় ও স্থানভিত্তিক বিভাজন আরোপের প্রচেষ্টার অংশ।

এ ছাড়া মুসলিমদের ইবাদতে বিধিনিষেধ, জেরুজালেম ওয়াকফ প্রশাসনের কাজে হস্তক্ষেপ এবং আল-আকসা মসজিদের নিচে ও আশপাশে পরিচালিত খননকাজ নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
যৌথ ঘোষণায় পুনর্ব্যক্ত করা হয়, ১৪৪ দুনাম আয়তনের পুরো আল-আকসা প্রাঙ্গণ মুসলিমদের একচ্ছত্র উপাসনাস্থল এবং এর প্রশাসনিক দায়িত্ব জর্ডান-সংশ্লিষ্ট ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের অধীনেই থাকবে।

একই সঙ্গে চার্চ অব দ্য হলি সেপালকারসহ খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে ইসরাইলি হস্তক্ষেপ, উপাসনাকারীদের প্রবেশে বাধা এবং গির্জার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।

যৌথ ঘোষণায় পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়। মন্ত্রীরা বলেন, ১৯৬৭ সালের ৪ জুনের সীমান্তের ভিত্তিতে ইসরাইল ও স্বাধীন ফিলিস্তিন—এই দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই মধ্যপ্রাচ্যে ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র কার্যকর পথ।

তারা জেরুজালেমের ইসলামি ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর ওপর জর্ডানের হাশেমাইট অভিভাবকত্বের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং শহরটিতে ফিলিস্তিনিদের টিকে থাকার সংগ্রামে সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এমএন/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ