সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৯ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
‎শহীদ নাসরুল্লাহ বদরের পরিবারের পাশে পেরিয়া ইউনিয়ন উলামা পরিষদ চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য নতুন ৪ পাঠ্যবইয়ের অনুমোদন দিল সরকার  সৌদি আরবে অভিযান: ৮ হাজার প্রবাসীকে ফেরত, গ্রেপ্তার ১৩ হাজারের বেশি  বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ঘনীভূত, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের শঙ্কায় ভারতের উপকূলে সতর্কতা  প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরসঙ্গী হচ্ছেন হেফাজত নেতা মাওলানা ইসলামাবাদী মসজিদে নববীতে রওজা জিয়ারত: প্রবেশের আদব, সালাম ও দোয়ার পদ্ধতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে আগামী নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাম উপসর্গে প্রাণ গেল ৫ শিশুর  ওযু ছাড়া ছোট শিশুদের কুরআন স্পর্শে বাধা নেই, কী বলছে ফিকহ? ১ নভেম্বর খুলছে সেন্টমার্টিন, পর্যটক ভ্রমণে বাড়ছে আগ্রহ

যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনে চলছে পৌর নির্বাচন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিরা পৌর নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু করেছেন। গাজায় সংঘাত শুরুর পর প্রথম স্থানীয় নির্বাচন এটিই।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৭টা থেকে গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় প্রায় ৭০ হাজার ভোটারের জন্য ভোটকেন্দ্র খোলা হয়।

গাজার একটি শহরে সীমিত পরিসরে এই ভোট আয়োজনকে মূলত প্রতীকী হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্মকর্তারা এটিকে পাইলট কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দেইর আল-বালাহকে বেছে নেওয়ার কারণ হলো, এটি গাজার অল্প কয়েকটি এলাকার একটি, যা ইসরায়েলি হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি।

অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় ১৫ লাখ নিবন্ধিত ভোটার স্থানীয় পরিষদ গঠনের জন্য ভোট দিচ্ছেন, যারা পানি, সড়ক ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা দেখভাল করবে।

এই নির্বাচন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন রাজনৈতিক পরিবেশ অত্যন্ত সীমিত এবং জনগণের মধ্যে হতাশা গভীর। দীর্ঘদিন জাতীয় নির্বাচন না হওয়া, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে জনঅসন্তোষ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নিজেদের সংস্কার ও বৈধতা প্রদর্শনের চেষ্টা করছে।

গাজার কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণকারী হামাস এই নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেয়নি।

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে গাজার বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় রামাল্লাভিত্তিক কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন দেইর আল-বালাহে প্রথম ভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রচলিত ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালানো সম্ভব না হওয়ায় তাদের বিকল্প পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়েছে।

কমিশনের মুখপাত্র ফারিদ তামাল্লাহ বলেন, মূল লক্ষ্য হলো পশ্চিম তীর ও গাজাকে একটি রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে সংযুক্ত রাখা।

তিনি আরও জানান, এই ভোট আয়োজনের আগে কমিশন ইসরায়েল বা হামাস—কোনো পক্ষের সঙ্গেই সরাসরি সমন্বয় করতে পারেনি এবং ব্যালট পেপার, বাক্স বা কালি গাজায় পাঠানোও সম্ভব হয়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কমলেও অতীতের স্থানীয় নির্বাচনে তা তুলনামূলকভাবে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে ছিল।

২০০৬ সালের সংসদ নির্বাচনে হামাস জয়লাভ করে এবং পরের বছর ফাতাহ নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয়।

শনিবারের নির্বাচনে তারা প্রার্থী দেয়নি। তবে জরিপে দেখা গেছে, গাজা ও পশ্চিম তীর—দুই জায়গাতেই হামাস এখনো জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক শক্তি।

জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার উপ-সমন্বয়ক রামিজ আলাকবারভ বলেন, এই নির্বাচন চরম চ্যালেঞ্জপূর্ণ সময়ে ফিলিস্তিনিদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

বর্তমানে গাজার একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে হামাস, যেখান থেকে গত বছর আংশিকভাবে ইসরায়েলি বাহিনী সরে যায়। একই সঙ্গে উপকূলীয় এই অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অধীনে নতুন শাসন কাঠামোর দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ‘বোর্ড অব পিস’ এবং মনোনীত ফিলিস্তিনি সদস্যদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।

তবে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ, পুনর্গঠন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরসহ পরবর্তী ধাপগুলোর অগ্রগতি এখনো স্থবির রয়েছে।

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ