শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৬ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিক মর্যাদায় স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার আহ্বান হেফাজতের রাতে চার দিনের সফরে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন আমিরে মজলিস হাফেজাদের যথাযথ পরিচর্যায় গড়ে তুলতে হবে: মাওলানা যাইনুল আবিদীন আস-সুন্নাহর সহায়তায় মেহেদীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ সৌদিতে আটকে ৪ হাজার ভারতীয় ওমরাহযাত্রী, বিশেষ ফ্লাইট চাইলেন ওয়াইসি হাটহাজারীতে তিন দিনের তাফসির মাহফিল সফল করার আহ্বান আল-আমিন সংস্থার ৯২ বছর বয়সেও নিয়মিত মসজিদে যান বসনিয়ার বৃদ্ধ আসামে মুসলিম উচ্ছেদ ও মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় খেলাফত মজলিসের নিন্দা ৫৬ বছরের দুর্নীতি ও ব্যর্থতায় সড়ক এখন মৃত্যুফাঁদ: গাজী আতাউর রহমান ডেঙ্গুতে প্রাণ গেলো আরও ৪ জনের

ফিরিয়ে দিন বিধবার মুখের হাসি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আকিদুল ইসলাম সাদী

একদিন যে মানুষটির হাত ধরে তিনি জীবনভর পথ চলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ সেই হাতটি আর নেই। যে সংসার ছিল ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও স্বপ্নের ঠিকানা, মুহূর্তেই তা যেন পরিণত হয়েছে শূন্যতার এক দীর্ঘ অধ্যায়ে। স্বামী হারানোর বেদনা কেবল একজন সঙ্গীকে হারানোর কষ্ট নয়; এটি ভেঙে পড়া অসংখ্য স্বপ্ন, অনিশ্চিত আগামী এবং নীরবে বয়ে বেড়ানো অসীম যন্ত্রণার নাম। সমাজের কোলাহলের ভিড়ে একজন বিধবার দীর্ঘশ্বাস অনেক সময় অদৃশ্য থেকে যায়। কিন্তু মানুষের চোখ এড়িয়ে গেলেও সেই অশ্রু কখনোই মহান আল্লাহর দৃষ্টির বাইরে নয়।

ইসলাম বিধবাদের প্রতি অবজ্ঞা নয়, বরং সম্মান, সহমর্মিতা ও নিরাপত্তার শিক্ষা দিয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন— "তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রী রেখে যায়, সেই স্ত্রীরা চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করবে। অতঃপর যখন তারা তাদের নির্ধারিত সময় পূর্ণ করবে, তখন তারা নিজেদের ব্যাপারে শরিয়তসম্মত যে সিদ্ধান্ত নেবে, তাতে তোমাদের কোনো দায় নেই। আর তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত। — সূরা আল-বাকারা, ২:২৩৪

আরও ইরশাদ হয়েছে— "তারা যখন তাদের ইদ্দত পূর্ণ করে, তখন তারা যদি বিধিসম্মতভাবে নিজেদের পছন্দমতো বিবাহ করতে চায়, তবে তাদের বাধা দিও না।" — সূরা আল-বাকারা, ২:২৩২

এই আয়াতদ্বয় স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, ইসলাম বিধবাকে নতুন জীবন শুরু করার পূর্ণ অধিকার দিয়েছে। তাকে অবহেলা করা, সামাজিক কুসংস্কারের শিকার বানানো কিংবা পুনর্বিবাহে বাধা দেওয়া ইসলামের শিক্ষা নয়।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিধবা ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন— "যে ব্যক্তি বিধবা ও দরিদ্রের কল্যাণে কাজ করে, সে আল্লাহর পথে জিহাদকারীর মতো; অথবা সেই ব্যক্তির মতো, যে রাতভর ইবাদত করে এবং দিনভর রোজা রাখে।" — সহিহ বুখারি: ৫৩৫৩; সহিহ মুসলিম: ২৯৮২

এজন্য বলবো- বিধবাকে অবজ্ঞা নয়—সম্মান করি; তুচ্ছতাচ্ছিল্য নয়—আন্তরিক সহমর্মিতা দেখাই; একাকীত্ব নয়—ভালোবাসা, সহযোগিতা ও মর্যাদার হাত বাড়িয়ে দিই। তাদের জীবনে নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস জোগাই, তাদের অধিকার নিশ্চিত করি এবং সমাজ থেকে অন্যায় কুসংস্কার দূর করি।

হয়তো আমাদের একটি আন্তরিক আচরণ, একটি সহানুভূতির বাক্য কিংবা একটি সহযোগিতার হাত কোনো বিধবার জীবনে আবারও আশার আলো জ্বালাতে পারে। আসুন, এমন একটি সমাজ গড়ি যেখানে কোনো বিধবার চোখে অবহেলার অশ্রু নয়, ফুটে উঠবে সম্মান, নিরাপত্তা ও নতুন জীবনের হাসি। কারণ, একজন বিধবার হাসি শুধু একটি পরিবারের সুখের প্রতীক নয়, বরং একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সুস্থ সমাজের পরিচয়।

লেখক : শিক্ষক, গবেষক ও ঔপন্যাসিক

আরেএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ