সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৯ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
‎শহীদ নাসরুল্লাহ বদরের পরিবারের পাশে পেরিয়া ইউনিয়ন উলামা পরিষদ চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য নতুন ৪ পাঠ্যবইয়ের অনুমোদন দিল সরকার  সৌদি আরবে অভিযান: ৮ হাজার প্রবাসীকে ফেরত, গ্রেপ্তার ১৩ হাজারের বেশি  বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ঘনীভূত, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের শঙ্কায় ভারতের উপকূলে সতর্কতা  প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরসঙ্গী হচ্ছেন হেফাজত নেতা মাওলানা ইসলামাবাদী মসজিদে নববীতে রওজা জিয়ারত: প্রবেশের আদব, সালাম ও দোয়ার পদ্ধতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে আগামী নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাম উপসর্গে প্রাণ গেল ৫ শিশুর  ওযু ছাড়া ছোট শিশুদের কুরআন স্পর্শে বাধা নেই, কী বলছে ফিকহ? ১ নভেম্বর খুলছে সেন্টমার্টিন, পর্যটক ভ্রমণে বাড়ছে আগ্রহ

দেশ আজ এক যুগসন্ধিক্ষণে উপনীত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ফাইল ছবি

মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী

একটি অন্তর্বর্তী সরকার থেকে সাংবিধানিক সরকারে ফিরে যাওয়ার লক্ষ্যে দেশ যতই নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, ততই একের পর এক সংকট ও সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চাইছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা তাদের কাছে কোনো গুরুত্ব বহন করে না। এর পেছনে ভিন্ন রাষ্ট্রের ইন্ধন যে রয়েছে, তা স্পষ্ট। গত সরকারের পলাতক গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়া তার বড় প্রমাণ। পাশাপাশি ইদানীং আমাদের মাতৃভূমিকে কেন্দ্র করে তাদের নানাবিধ তৎপরতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে বিএনপির ভেতরে থাকা কিছু অপরিণামদর্শী ও স্বার্থপর ব্যক্তির সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করে আরেকটি পক্ষ নানাভাবে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি তুলছে। তাদের ধারণা—নির্বাচন যত পিছাবে, বিএনপির জনসমর্থন তত কমবে এবং তারা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে ভালো ফল করতে পারবে।
নির্বাচনে ভালো করার কৌশল গ্রহণ করা সবার অধিকার। কিন্তু এমন একটি পরিস্থিতিকে লালন করা, যার ফলে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়—তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অথচ ঐ মহলটি দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোগান্তি লাঘবের পথটি বেছে নেয়নি।
আওয়ামী লীগকে ‘মাফ করে দেওয়া’ এবং ভারত অসন্তুষ্ট হয়—এমন কিছু না করার অঙ্গীকারের পেছনে যে রহস্য রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। প্রথমে তারা নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার অজুহাত হিসেবে পিআর পদ্ধতির দাবি তোলে—তা না হলে নির্বাচন হতে দেবে না বলে হুমকি দেয়। এরপর সংস্কার পাশ করানোর জন্য সর্বাগ্রে গণভোটের দাবি আনে। তারপর উসমান হাদীর ওপর হামলার ঘটনাকে সামনে এনে ‘নির্বাচনের পরিবেশ নেই’—এই বক্তব্য প্রচার করে। কিন্তু জনগণ এসব কৌশল গ্রহণ করেনি। দেশ দৃঢ়ভাবে নির্বাচনের দিকেই এগিয়ে চলেছে।
অপরদিকে প্রথম পক্ষটি একের পর এক খুন, অগ্নিসংযোগসহ নানাবিধ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। দেশের প্রথম সারির দুটি পত্রিকা অফিসে অগ্নিসংযোগও যে তাদেরই কারসাজি—তা বলাই বাহুল্য। এমতাবস্থায় গোটা জাতিকে ঐ অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং জাতীয় নির্বাচন সফল করতে হবে। কারণ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে যেমন ব্যর্থ, তেমনি অর্থনীতির চাকা সচল রাখতেও অক্ষম।
এই মুহূর্তে উসমান হাদীর শাহাদাত জাতির জন্য এক গভীর আঘাত। আল্লাহ তায়ালা তাঁর শাহাদাত কবুল করুন।
আমাদের উচিত ভেঙে না পড়ে এই শাহাদাতকে শক্তিতে রূপান্তর করা এবং দেশি-বিদেশি সকল অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তোলা। কোনো ধরনের অপকর্মকে প্রশ্রয় না দেওয়া—এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

লেখক: সিনিয়র সহ-সভাপতি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ

জেএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ