বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জুড়তে লেবাননের প্রতি হিজবুল্লাহর আহ্বান ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অনশন অব্যাহত রাখবেন ইবতেদায়ী শিক্ষকরা রাজশাহীতে ট্রাক-মাহিন্দ্রা মুখোমুখি সংঘর্ষে ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নিহত ২ ‘যুক্তরাজ্যের মুসলিমদের সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বিশ্বে গর্বের বিষয়’ অপরাধের বিচার হোক সমান চোখে, ধর্মীয় পরিচয়ে নয় সুযোগ দিয়ে দেখুন, মাদরাসার ছাত্ররাই বদলে দিতে পারে চিত্র ‘সব প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে ইসলামি রাষ্ট্র বিনির্মাণের সংগ্রাম জোরদার করতে হবে’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন অক্টোবরে, ২৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে ইসি খেলাফত মজলিস ইউকে সাউথ শাখার তরবিয়াহ মাহফিল অনুষ্ঠিত

কওমি মাদরাসার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনাযোগ্য

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ইফতেখার জামিল

বাদশা আলমগীরের পৃ ষ্ঠপোষকতা না পেলে কি কখনো ফতোয়ায়ে আলমগীরীর মতো বিখ্যাত সংকলন আলোর মুখ দেখতো? দেখতো না। শুধু ফতোয়ায়ে আলমগীরীই নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় হানাফি ফিকাহের বিকাশ ঘটেছে প্রধানত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাকে কেন্দ্র করে।

গবেষণা করতে গিয়ে আমি দেখেছিলাম, ভারতবর্ষে মুসলিম যুগে রচিত ফিকাহ বিষয়ক প্রায় প্রতিটা সংকলন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে সম্পাদিত হয়েছিল। ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়ার নাম তাতারখানিয়া কেন, গেস করতে পারেন?

গাজালি নিজামুল মুলকের পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে ‘ইমাম গাজালি’তে পরিণত হতে পারতেন না। পাশাপাশি, মনে রাখা ভালো, নিজামুল মুলক নিজামিয়া মাদরাসার মাধ্যমে মুসলিম স্কলারশিপকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান—নিজামিয়ার পরবর্তী পুরুষরাই ক্রুসেড যুদ্ধে নেতৃত্ব দান করেন, ওসমানি খেলাফতের বুদ্ধিবৃত্তিক পাটাতন তৈরি করে দিয়ে যান। মুসলিম যুগের মন্ত্রী ছিলেন হাজার হাজার—তবু আমরা কেন এখনো ওযীর/মন্ত্রী বললে কেবল নিজামুল মুলকের কথাই ভাবি? 

ইয়েস—সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা গ্রহণ করার ঝুঁকি মোটেই কম নয়—রাজাবাদশারা পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি হস্তক্ষেপ করতেও ভালোবাসেন। মোগলদের পতনের প্রক্ষিতে ফারাঙ্গিমহল প্রায় বন্ধ হতে বসে, ব্রিটিশদের সাহায্য নিতে বাধ্য হয়। ঠিক এ কারণেই দেওবন্দ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। তবে আমাদেরকে কেন মুসলিম যুগকেও অমুসলিম যুগের মত কল্পনা করে নিতে হবে?

দেখেন—কেউ ডিরেক্টলি সরকারি টাকায় কওমি মাদরাসা চালানোর কথা বলবে না—তবে, রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ নিয়ে আপনারা একটা কল্যাণ ফান্ড বানাতে পারেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে/শেষ বয়সে গরীব মাদরাসা শিক্ষকরা পেনশনের আবেদন করতে পারবেন। অথবা একটা হাসপাতাল বানাতে পারেন—একদল চিকিৎসক মাদরাসায় মাদরাসায় যাবেন, ছাত্রদের চেকআপ করবেন, সুস্বাস্থ নিশ্চিত করবেন।

কওমি মাদরাসার সাথে রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের প্রশ্নকে নতুন করে বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।

লেখক: গবেষক, চিন্তক ও অ্যাকটিভিস্ট

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ