শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
ডেঙ্গুর টিকা আনতে উদ্যোগ নেবে ডিএসসিসি মুফতি নাসরুল্লাহ বদরের পরিবারের পাশে এনসিপি ইসলামি শ্রমনীতি ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে: গাজী আতাউর রহমান ৩০ পেরিয়েছেন? সুস্থ থাকতে গড়ে তুলুন ৭ অভ্যাস জমজমের বরকতে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা দেশমাতৃকা উলামায়ে কেরামের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে: মুফতি আবুল হাসান এমপি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজদের মধ্যে ব্রেইল কুরআন ও সাদাছড়ি বিতরণ দেশে ফিরেছেন সৌদি আরবে আটকে পড়া ৫০ ওমরাহযাত্রী মাওলানা নূরুল হক রহ.-এর কবর জিয়ারত করলেন খেলাফত মজলিস আমির ঢাবির গবেষকদের ‘স্মার্ট ফাঁদে’ শনাক্ত হবে এডিস মশার বিস্তার

শতবর্ষী মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া ন্যায়বিচারের নীতির গুরুতর লঙ্ঘন: মাহমুদ মাদানী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে অবস্থিত শতবর্ষী একটি মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানি। তিনি এ ঘটনাকে ন্যায়বিচার ও আইনি প্রক্রিয়ার মৌলিক নীতির জন্য গুরুতর আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে মাওলানা মাহমুদ মাদানি বলেন, কালেক্টরেট চত্বরে জমি নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে প্রশাসন ও ম্যাজিস্ট্রেট নিজেরাই একটি পক্ষ হয়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে একই পক্ষের বিচারকের ভূমিকা নেওয়া ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

তিনি বলেন, ‘কোনো পক্ষই নিজের মামলায় বিচারক হতে পারে না’—এটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি আইনি নীতি। ফলে এ ধরনের পরিস্থিতিতে একতরফা প্রশাসনিক পদক্ষেপ ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির গুরুতর লঙ্ঘন।

মাওলানা মাদানীর দাবি, গত ৪ সেপ্টেম্বর নিম্ন আদালতের দেওয়া আদেশে মসজিদটি তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে ফেলার কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না। এরপরও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাতে মসজিদটি ভেঙে ফেলে প্রশাসন। তার অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়নি এবং আদালতের আদেশের সত্যায়িত কপি সংগ্রহের সুযোগও দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আইন যখন উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রেখেছে, তখন নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে ন্যায়বিচারের জন্য উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অধিকার দিয়েছে। কোনো পদক্ষেপের ফলে অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়ার যুক্তিসংগত সুযোগ না দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

মসজিদটি ভাঙার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ‘অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো’ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি। তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ উচ্চ আদালতে গিয়ে প্রতিকার পাওয়ার প্রায় সব সুযোগ হারিয়েছে।

মাওলানা মাদানী বলেন, কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফল যদি অপূরণীয় হয়, তাহলে কর্তৃপক্ষের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত আইনি প্রক্রিয়া ও ন্যায়সংগত পদ্ধতি নিশ্চিত করা; দ্রুততার সঙ্গে স্থাপনা ভেঙে ফেলা নয়।

মসজিদ কমিটি ও তাদের আইনজীবীদের দ্রুত উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে যথাযথ বিচারিক হস্তক্ষেপ কামনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশাসনের পদক্ষেপকে বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় আনার দাবি জানান। সরকারি ক্ষমতার যথেচ্ছ ব্যবহার নয়, বরং আইনের শাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া ন্যায়বিচার, সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ের বিরুদ্ধে কথিত নির্বিচার পদক্ষেপের প্রবণতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান মাওলানা মাহমুদ মাদানী।

তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো অব্যাহত থাকলে সাম্প্রদায়িক বিভাজন আরও গভীর হতে পারে এবং দেশের যৌথ সামাজিক ও সাংবিধানিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এসএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ