সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৮ পৌষ ১৪৩২ ।। ২৩ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
নির্বাচন ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে আর কখনও রাতের ভোট হবে না: আলী রীয়াজ এবার খামেনির পক্ষে ইরানের রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ! কায়কোবাদকে ফের সংসদে দেখতে চায় মুরাদনগর উপজেলা জমিয়ত ‘তিন ভাই মিলে খুন করলেন কেন?’ বিস্মিত বিচারকের প্রশ্ন ‘মোশাররফ ঠাকুরের বক্তব্য অবমাননাকর, তাকে ক্ষমা চাইতে হবে’ নানুপুর মাদরাসার খতমে বুখারি ও দোয়া মাহফিল ১৬ জানুয়ারি ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল পিকআপ ভ্যান, দুই ভাইসহ নিহত ৩ ‘নিকাব নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে মোশাররফ ঠাকুরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে’ ভারতে পৌঁছালেন তালেবান-নিযুক্ত প্রথম কূটনীতিক, দিল্লি দূতাবাসে তোড়জোড়

তালেবানকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে দেওয়া তকমা পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আফগানিস্তানের শাসক তালেবানকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে যাওয়া হবে কি না, যুক্তরাষ্ট্র তা পর্যালোচনা করছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ কথা জানিয়েছেন।

গতকাল বুধবার ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিলে প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির এক শুনানিতে রুবিও বলেন, ‘আমি মনে করি, এই শ্রেণিবিন্যাস (তালেবানকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেওয়া) এখন আরও একবার পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে।’

রুবিও এ মন্তব্য এমন একসময় করলেন, যখন এক দিন আগেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশৃঙ্খল সেনা প্রত্যাহার নিয়ে এক ‘নিবিড় পর্যালোচনা’ করার নির্দেশ দেন। ওই আগস্টে দেশত্যাগে ইচ্ছুক আফগানদের উদ্ধারে অভিযান চালানোর সময় কাবুল বিমানবন্দরে আইএসআইএল (আইএসআইএস)-এর বোমা হামলায় ১৩ মার্কিন সেনা ও ১৫০ জন আফগান নিহত হন।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কাতারের দোহায় তালেবানের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন ট্রাম্প। এটির লক্ষ্য ছিল, আফগানিস্তানে ১৮ বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটানো। পরে কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় চার হাজার সৈন্য প্রত্যাহারের মাধ্যমে যুদ্ধ অবসানের কাজটি শুরু হয়।
গত মঙ্গলবার এক স্মারকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বলেন, ওই বিশৃঙ্খল সেনা প্রত্যাহার বিষয়ে তিন মাস ধরে মূল্যায়নের কাজ চালানোর পর এ ঘটনার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি বিস্তৃত পর্যালোচনার প্রয়োজন।

‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ এবং সামরিক পোশাক পরা ব্যক্তিদের আস্থা ও বিশ্বাস পুনরুদ্ধারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ সিদ্ধান্ত সঠিক ও যুক্তিযুক্ত। কারণ, ওই প্রত্যাহার অভিযানে অনেকে নিহত হয়েছেন ও অনেক সরঞ্জাম খোয়া গেছে’, স্মারকে লেখেন হেগসেথ।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল। তারা ওই বিশৃঙ্খল সেনা প্রত্যাহার কার্যক্রমের জন্য পরিকল্পনার ঘাটতি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে সৈন্যসংখ্যা হ্রাসকে দায়ী করে। তালেবানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের করা এক চুক্তির ভিত্তিতে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের কাজটি ত্বরান্বিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কাতারের দোহায় তালেবানের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন ট্রাম্প। এটির লক্ষ্য ছিল, আফগানিস্তানে ১৮ বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটানো। পরে কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় চার হাজার সৈন্য প্রত্যাহারের মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের কাজটি শুরু হয়।

ট্রাম্প প্রশাসন সম্মত হয়েছিল, যদি তালেবান আফগান সরকারের (ক্ষমতাচ্যুত আশরাফ গনি সরকার) সঙ্গে শান্তি চুক্তি করে এবং আন্তর্জাতিকভাবে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে বিবেচিত আল-কায়েদা ও আইএসআইএলের মতো সংগঠনগুলোকে আফগানিস্তানে ঘাঁটি গাড়তে বাধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে মার্কিন সেনারা ২০২১ সালের মে মাসের মধ্যে দেশটি থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে যাবে।

২০২১ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর জো বাইডেন বলেন, তাঁকে এ চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে, নয়তো তালেবানের সঙ্গে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হবে এবং এর ফলে আফগানিস্তানে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্প প্রায়ই বাইডেন ও তাঁর প্রশাসনের ওই সেনা প্রত্যাহার নিয়ে সমালোচনা করেন। বলেন, এটি যেভাবে করা হয়েছে তা ‘আমাদের দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বিব্রতকর দিন।’ ট্রাম্প আরও বলেন, প্রত্যাহার কার্যক্রম হওয়া উচিত ছিল ‘মর্যাদা, শক্তি ও ক্ষমতার সঙ্গে।’

আফগান তালেবান ও সৌদি আরবের সম্পর্ক কি নতুন মোড় নিচ্ছে
তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন ও তৎকালীন শীর্ষ মার্কিন জেনারেল মার্ক মিলির মতো জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে সেনা প্রত্যাহার বিষয়ে তাঁদের সাক্ষ্য দিতে কংগ্রেস সদস্যদের সামনে উপস্থিত হয়েছেন।

২০০১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে যুদ্ধ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এক যুদ্ধ, যা ভিয়েতনাম যুদ্ধকেও ছাড়িয়ে গেছে।

তালেবান শাসনের তিন বছর, কেমন আছে আফগানিস্তান
হেগসেথের সাম্প্রতিকতম এ পর্যালোচনার নির্দেশ কীভাবে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী, পররাষ্ট্র দপ্তর ও প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পপন্থী রিপাবলিকানদের করা পর্যালোচনাগুলো থেকে আলাদা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
 
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক কার্যক্রম তদারকি করা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) কাবুলে প্রত্যাহারের শেষ কয়েক দিনে সংঘটিত আইএসআইএলের হামলার ব্যাপারেও একটি তদন্ত পরিচালনা করেছে।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ