বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় অসুস্থ ব্যক্তির সেবা শুশ্রুষা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

|| মুফতি আলী হুসাইন ||

ইসলাম একটি সর্বজনীন জীবনব্যবস্থা। এর প্রতিটি আদেশ ও নিষেধের মাঝে রয়েছে মানবজাতির ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণ। ইসলামের ফরজ বিধান পালনে যেমন নেকি আছে তদ্রুপ নফল আমলগুলোতেও আছে অফুরন্ত নেকি। কিন্তু আফসোস হলো এসকল নফল আমলে আমরা তেমন গুরুত্ব দেই না। অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া এবং তার সেবা শুশ্রুষা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদত এবং রাসুলুল্লাহ সা:-এর একটি বিশেষ সুন্নত।

আমাদের প্রিয় নবি সা: এ ব্যাপারে খুব গুরুত্বারোপ করেছেন। নিজেও রোগীর সেবা-শুশ্রুষা করে উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন, একটি মহান ইবাদত। তাছাড়া মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া এবং তার সেবা-শুশ্রুষা করা, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর মধ্যদিয়ে পারিবারিক ও সামাজিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্প্রীতি মজবুত হয় এবং পরস্পর নিবিড় ভালোবাসার সম্পক সৃষ্টি হয়। তবে রোগী দেখার কিছু আদব ও সুন্নত রয়েছে। আমাদের সেগুলোর প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।

১. অজুসহকারে রোগী দেখতে যাওয়া।
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি উত্তমরুপে অজু করে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে কোনো অসুস্থ মুসলমানকে দেখতে যায়, তাকে জাহান্নাম থেকে ৬০ বছরের সমপথ দূরে রাখা হবে। [সুনানে আবু দাউদ: ৩০৯৭]

২.যথাসম্ভব রোগীর শরীরে হাত দিয়ে অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা। [মুসনাদে আহমাদ: ২২২৩৬]
বুখারি ও মুসলিম গ্রন্থে এসেছেÑ রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস [রাদিয়াল্লাহু আনহু] কে দেখতে গেলেন, তখন তাঁর বরকতময় হাত সাদ এর কপালের ওপর রাখলেন এবং চেহারা ও পিঠের ওপর হাত বুলিয়ে দিলেন। আর বললেন- اَللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدًا.

হে আল্লাহ! আপনি সাদকে সুস্থ করে দিন। [সহিহ বুখারি: ৫৬৫৯]
রোগীর শরীরে হাত বুলালে সে শান্তনা লাভ করে। তাছাড়া তার অবস্থা সম্পর্কে ভালোভাবে জানা যায়। এটাও তার প্রতি এক প্রকারের অনুগ্রহ ও দয়াসুলভ আচরণ।

৩. রোগীকে শান্তনার বাণী শোনানো।
আবু সাঈদ খুদরি [রাদিয়াল্লাহু আনহু] বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, তোমরা যখন কোনো রোগীর কাছে যাবে, তার জীবন সম্পর্কে আনন্দদায়ক কথা বলবে। তাকে শান্তনা দেবে। যদিও ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারবে না, যা ঘটার তাই ঘটবে তবুও তার মনে শান্তনা লাভ হবে, যা রোগী দেখতে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য। [তিরমিযি: ২০৯৪]

৫.রো