শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


আল্লাহর নিকট ইসলাহের তাওফীক প্রার্থনা করুন: মুফতি তাকি উসমানি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।।মুহাম্মাদ আশিক বিল্লাহ তানভীর।।

আমার হযরত (ডা. অবদুল হাই আরেফী) রাহ. বলতেন- আল্লাহ তাআলা বড়ই দয়ালুু ও মেহেরবান। মা-বাবার চেয়েও বহুগুণে বেশি। অতএব আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট নিঃসঙ্কোচে চাইতে থাক। এভাবে বল যে, আয় আল্লাহ! আপনি দুনিয়াতে আমাকে ভালো কাজ করার তাওফীক দিন অথবা আখেরাতের পাকড়াও থেকে রেহাই দিন। আমি আপনার দরবারে আমার সার্বিক বিষয় অর্পণ করছি। আপনি আমার হালত দুরস্ত করে দিন, আমাকে ইসলাহ করে দিন অথবা আখেরাতের আযাব থেকে মুক্তি দিন। এভাবে আল্লাহর কাছে চাইতে থাক।

মানুষ এগুলোকে মামুলি বিষয় মনে করে। এজন্য এর প্রতি এত গরজ করে না। কিন্তু বাস্তবতা হল, ইসলাহের জন্য এটা অনেক মুফীদ ও উপকারী একটি মাধ্যম। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার নিকট সবসময় নাছোড়বান্দা হয়ে চাইতে থাকা।

আর যে ব্যক্তি এভাবে নিয়মিত দুআ করে সে অবশ্য নিজের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টাও অব্যাহত রাখে। এজন্য দুআর অর্থ কখনও এই নয় যে, শুধু দুআই করে যাব। চেষ্টা, মেহনত-মোজাহাদা কোনো কিছুই আর করা লাগবে না! বরং আল্লাহ তাআলা সর্বক্ষেত্রে এ হুকুম দিয়েছেন যে, তুমি তোমার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা মেহনত কর এবং আমার কাছে দুআ কর। চেষ্টাও অব্যাহত রাখ এবং দুআও করতে থাক। তো যে এভাবে চেষ্টা ও দুআ একসাথে জারি রাখবে, এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার মোআমালা বা আচরণ হল- আল্লাহ তাআলা একে আযাব দিবেন না। আল্লাহ তাআলা তাকে গুনাহ ও নাফরমানী থেকে হেফাযত করবেন। নতুবা কম সে কম তাকে মাফ করে দিবেন।

একটি শিক্ষণীয় ঘটনা

আমি আপনাদেরকে একটি ঘটনা শোনাই। ঘটনাটি আমার নিজের সাথেই ঘটেছে। আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগে জার্মান থেকে আমার কাছে এক ব্যক্তির একটি চিঠি আসে। সে মূলত পাকিস্তানী। পরবর্তীতে জার্মানের নাগরিক হয়ে গেছে। তার নামটা এখনও আমার মনে আছে- আবদুল লতীফ। সে চিঠিতে উল্লেখ করে- আমি রুটিরুজির তালাশে পাকিস্তান থেকে জার্মান চলে আসি। তখন ধর্মকর্মের প্রতি আমার আগ্রহ-আকর্ষণ কিছুই ছিল না। নামায-রোযা বা অন্য কোনো দ্বীনী বিষয়ের প্রতি আমার কোনো ভ্রুক্ষেপই ছিল না। ব্যস, পেটের দায়ে পাকিস্তান ছেড়ে জার্মানে পাড়ি জমাই এবং এখানেই স্থায়ী হয়ে যাই।

এখানে থাকতে থাকতে জার্মানী এক মেয়ের সাথে আমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারী। তখন দ্বীন-ঈমানের প্রতি আমার মোটেও তাওয়াজ্জুহ ছিল না। নামায-রোযা, যাকাত, কুরবানী কোনো বিষয়ে কোনো খবর নেই। এক