মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রহমানী
ভাষান্তর: মাওলানা তাওহীদ আদনান কাসেমী নদভী
ভারতবর্ষের ইতিহাসে একটি কঠিন সময় ছিল, শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্য নয়, বরং সমস্ত দেশবাসীর জন্য, যখন রাজা, বাদশাহ ও নবাব শাসনের অবসান ঘটে এবং ব্রিটেন তার ক্ষমতা শক্তিশালী করতে শুরু করে।
১৭৫৭ সালে ব্রিটিশদের সম্প্রসারণবাদী আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলন বঙ্গ ও মহীশূর হয়ে ১৮৫৭ সালে দিল্লিতে পৌঁছে যায় এবং মোঘল সাম্রাজ্যের জ্বলন্ত প্রদীপ সম্পূর্ণরূপে নিভে যায়। যদিও কিছু হিন্দু রাজা ও মুসলিম নবাবদের রাজ্য তখনও দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়ে গেছে; কিন্তু কার্যত সর্বত্রই ব্রিটিশদের ক্ষমতা কায়েম হয়ে গিয়েছিল আর সেসব সরকার ছিল ব্রিটিশদের গোলাম ও দেশবাসীর মনীব।
ব্রিটিশরা রাজনৈতিক আধিপত্যের পাশাপাশি খ্রিস্টধর্মের প্রচারের জন্য একটি সংগ্রাম শুরু করে, যেনো ক্ষমতার সময়কাল দীর্ঘায়িত করা যায়, তাদের দখলকে সুসংহত করা যায় এবং ভারতকে স্থায়ীভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
যদিও খ্রিস্টান মিশনারিরা হিন্দু ও মুসলমান উভয়কেই টার্গেট করেছিল; কিন্তু হিন্দুদের নিম্ন জাতির মধ্যে তারা বেশি সফলতা লাভ করে। আর মুসলমানরা তাদের সংকল্পের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই তারা বিশেষভাবে ইসলামী বিশ্বাস, নবীজীর সত্তা ও গুণাবলী, ইসলামী ও শরীয়া আইনের উৎস কোরআন ও হাদিস এবং সেই সাথে মুসলমানদের ইতিহাসকে তারা টার্গেট বানায়।
পরিতাপের বিষয় ছিলো যে, আর্য সমাজ ও সম্প্রদায়ের লোকেরাও তাদের বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে মুসলমানদের বিরোধিতা করতে সাহায্য করেছিল। মুসলমানরা একদিকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে এবং অন্যদিকে আর্য সমাজের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল।
এই পরিস্থিতিতে আল্লাহর কিছু নেক বান্দারা সহজ সমাধানের অভিনব একটি পথ আবিষ্কার করেন। সরকারকে সহায়তা করা এবং এরপরে সেই প্রভাব নিয়ে স্বাধীন ধর্মীয় মাদরাসা প্রতিষ্ঠাকরণ। তাদের অনুমান ছিলো, সুরক্ষার পাশাপাশি ইসলামের জন্য বহু জনবলও তৈরি হবে এখান থেকে, যারা পূর্ণ শক্তি এবং ধর্মীয় শ্রদ্ধাবোধের সাথে এই প্রতিষ্ঠানগুলো ইসলাম উপস্থাপন ও রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে। সরকারের প্রভাবমুক্ত থাকার দরুন কোন প