শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ।। ২১ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
বাবুনগর মাদ্রাসায় যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, জুমার শেষে যোগ দেবেন সম্মেলনে সিসেস্তার মাউন্ট বারবারো: ইতিহাসের সাক্ষী প্রাচীন মসজিদ শৈশবের বিশ্বাসের সঙ্গে ইসলামের মিল, মুসলিম হলেন মার্কিন তরুণী ফেনীতে ‘খেলাফতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মাদরাসার বৃত্তি পরীক্ষা: কেন্দ্রসচিবদের জন্য বোর্ডের ১৪ নির্দেশনা মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদে আজ জুমা পড়াবেন যাঁরা ‘কওমি সিলেবাসের মৌলিকত্ব ঠিক রেখে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা দরকার’ দীর্ঘদিনের দ্বীনি খেদমতের স্বীকৃতি পেলেন মুফতি আব্দুল কাইয়ুম বাংলাদেশের হজ কোটা বাড়ল আরও ৫ হাজার, মোট ৮৩ হাজার ৫০০ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর, পরীক্ষা ৫ ডিসেম্বর

ধৈর্য: এক মহৎ গুণ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ।।

মানুষ কখনও একা বসবাস করতে পারে না। মানুষকে সমাজবদ্ধভাবে বাস করতে হয়। কোনো মানুষ চাইলে একা জঙ্গলে বাসতে পারবে না। তাকে অবশ্যই পরিবারের কাছে, সমাজে ফিরে আসতেই হবে। তাই পরিবারিক জীবনে, সমাজিক জীবনে যে গুণটি সবচেয়ে বেশি জরুরী, তা হলো ধৈর্য। সবর না থাকলে, ধৈর্য না থাকলে মানুষকে পরিবারে, সমাজে লজ্জিত হতে হয়। অপমানিত হতে হয়।

তাই প্রতিটি মানুষের যেমন পানির প্রয়োজন, পানি ছাড়া জীবন বাঁচে না, তদ্রƒপ প্রতিটি মানুষের জীবনে ধৈর্য থাকা আরও বেশি জরুরী। একজন মানুষ সুঠাম দেহের অধিকারী। তার শরীরে প্রচণ্ড শক্তি। কিন্তু সে ধৈর্যশীল নয়। তবে সে সুঠাম দেহের অধিকারী হতে পারে, তার শরীরের প্রচণ্ড শক্তি থাকতে পারে, সে কিন্তু প্রকৃত শক্তিশলী নয়। প্রকৃত শক্তিশালী তো সে যে ধৈর্যশীল। যে সবর করে। কথায় কথায় রেগে যায় না। ধৈর্য ধরে। কথায় কথায় জলে ওঠে না। সবর করে।

আল্লাহ তা‘আলাও কুরআনে ধৈর্যশীলদের প্রশংসা করেছেন। আল্লাহ বলেন,
{وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ} [البقرة : ১৫৫]

‘আর দেখ আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করবো (কখনও) ভয়-ভীতি দ্বারা, (কখনও) ক্ষুধা দ্বারা এবং (কখনও) জান-মাল ও ফসলহানী দ্বারা। যেসব লোক (এরূপ অবস্থায়) সবরের পরিচয় দেয়, তাদেরকে সুসংবাদ শোনাও।’

অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদেরকে কখনও কখনও পরীক্ষা করেন বালা-মুসীবতের দ্বারা। কখনও সেই বালা-মুসীবত আসে নিজের ওপর, কখনও আসে পরিবার-পরিজনের ওপর, আবার কখনও আসে ধন-সম্পদের ওপর। আল্লাহ মুসীবত দিয়ে বান্দাকে পরীক্ষা করেন, দেখি আমার বান্দা মুসীবতে ধৈর্য ধরে কি না। যদি বান্দা আপতিত বিপদে ধৈর্য ধরে, তাহলে আল্লাহ বান্দার ওপর খুশি হন। খুশি হয়ে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।

অথচ আমাদের ওপর কোনো বিপদ-আপদ আসলে আমরা ধৈর্য হারা হই। আবল-তাবল কথা বলি। যা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষেধ। বিপদ তো আমাদের পেয়ারা রাসূলের ওপরও এসেছে, তাহলে শুনা যাক তিনি বিপদে পড়ে কী বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রিয় ছেলে ইবরাহীমকে হারিয়ে বলেছেন,
إن العين تدمع و القلب يحزن و لا نقول إلا ما يرضي ربنا و إنا بفراقك يا إبراهيم لمحزونون.

‘চক্ষু তো অশ্রু বিসর্জন করে। অন্তর তো পেরেশান। তবে আমরা তো এমন কথা বলেবো, যে কথায় আমাদের রব খুশি হন। আর এমন কথা কখনই বলবো না, যে কথায় আমাদের রব অসন্তুষ্ট হন। হে ইবরাহীম! তোমার বিচ্ছেদে আমরা শোকাহত।’

তাই আমাদেরকে রাসূল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তবেই আমারা প্রকৃত মুমিন হতে পারবো। আল্লাহ কুরআনে বলেন,
{إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ} [الزمر : ১০] ‘যারা সবর অবলম্বন করে তাদেরকে তাদের সাওয়াব দ