মাওলানা সাখাওয়াত রাহাত
পবিত্র আশুরা। আজ থেকে প্রায় তিন হাজার বছর আগে এই দিনেই আল্লাহ তায়ালা জালেম ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন নিপীড়িত মুসা আলাইহিস সালাম ও তার জাতিকে। বনি ইসরাইলের জন্য সমুদ্রে (লোহিত সাগর) যে রাস্তা বের করে তিনি তাদেরকে নিরাপদে পার করে দিয়েছিলেন; সেই একই রাস্তা দিয়ে ফেরাউন ও তার অনুসারীদেরকে তিনি ডুবিয়ে মেরেছেন।(১) ফলশ্রুতিতে আল্লাহ তায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ মুসা আলাইহিস সালাম এ দিনে রোজা রাখতেন।
ইসলামপূর্ব আরব জাহেলি সমাজে এবং আহলে কিতাব ইহুদি-নাসারাদের মাঝেও এ দিনের বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদা ছিল। হাদিসে এসেছে— (জাহেলি সমাজে) লোকেরা রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে আশুরার দিন রোজা রাখত। এ দিন কাবায় গেলাফ জড়ানো হত। এরপর যখন রমজানের রোজা ফরজ হল তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন— যে এ দিন রোজা রাখতে চায় সে রাখুক। যে না চায় না রাখুক।(২)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে মদিনা মুনাওয়ারায় আসার পর দেখেন, মদিনার আহলে কিতাব ইহুদিরা এ দিনে রোজা রাখছে। এ দিনকে তারা বিশেষভাবে উদ্যাপন করছে। তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন: এ দিনে তোমরা কী জন্য রোজা রাখছ? তারা বলল: এটি একটি মর্যাদাপূর্ণ দিবস। আল্লাহ তায়ালা এ দিনে হজরত মূসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর কওমকে (ফেরাউনের কবল থেকে) মুক্তি দিয়েছেন। এবং ফেরাউনকে তার দলবলসহ (দরিয়ায়) নিমজ্জিত করেছেন। এরপর হজরত মূসা আ. এ দিনে শুকরিয়া আদায় স্বরূপ রোজা রাখতেন। তাই আমরাও রোজা রাখি। নবীজী এ শুনে বললেন: মূসা আলাইহিস সালাম এর অনুসরণের ক্ষেত্রে তো আমরা তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার। এরপর নবীজী নিজেও রোজা রাখলেন এবং অন্যদের রোজা রাখতে বললেন।(৩)
আশুরার দিনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো নেয়ামতের শোকর আদায় করা। তাই আমাদের প্রতি আল্লাহ তায়ালার যত প্রকার নেয়ামত রয়েছে সেগুলো স্মরণ করে আল্লাহর শোকর আদায় করতে হবে। যে নেয়ামতের শোকর যেভাবে আদায় করতে হয়, সেভাবে সে নেয়ামতের শোকর আদায় করতে হবে। আল্লাহ সম্পদ দিয়ে থাকলে তার শোকর আদায় করতে হয় আল্লাহর রাস্তায় দান করে, আল্লাহর হুকুম মতো তা ব্যয় করে। আল্লাহ ইলম বা জ্ঞান দান করলে সে ইলম অনুযায়ী আমল করে এবং মানুষকে তা বিতরণ করে তার শোকর আদায় করতে হয়। আল্লাহ সুস্থতা দান করলে, সময় সুযোগ দান করে থাকলে দীনের কাজে সেটাকে লাগানো হলো সেই নেয়ামতের শোকর à