মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ।। ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১৫ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড যে ৮ উপকরণে ধোয়া হলো পবিত্র কাবা এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ তিস্তা, গঙ্গাসহ ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ: ডা. জাহেদ রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী কুড়িগ্রামে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান যাবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ আজ শহীদ আরমান দিবস: কী ঘটেছিল সেদিন কিশোরগঞ্জে? পবিত্র কাবার বার্ষিক গোসল সম্পন্ন ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ: আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের

ওয়ারিশদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা: ইসলামের হুঁশিয়ারি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

নাজমুল হাসান সাকিব।।

জায়গা-জমির বিরোধ আমাদের দেশে অহরহ ঘটে। মৃত ব্যক্তির ছোট সন্তানদের তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা, নারীদের তাদের হক থেকে বঞ্চিত করার মতো ঘটনাও ঘটে। জায়গা-জমির বিরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটে নানা ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা। হত্যার মতো ঘটনাও পত্রিকার পাতায় দেখা যায়।

সবচেয়ে বেশি ঘটে নারীদের ক্ষেত্রে। তাদের সম্পত্তি না দেয়া দোষনীয় মনে করা হয় না। বাবার সম্পত্তি মেয়ের প্রাপ্য একথাও স্বীকার করে না অনেকে। অথচ ইসলামে বাবার সম্পত্তিতে নারীর পূর্ণ হক দেয়া হয়েছে। মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে কে কতটুকু পাবে সেটাও স্পষ্ট।

ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের উপর দুই ধরণের হক রয়েছে। এক, আল্লাহর হক। দুই, বান্দার হক। এই দুটি হকের মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে - আল্লাহর হক। আর সবচেয়ে জটিল হচ্ছে - বান্দার হক। মানুষ যদি আল্লাহর কোন হক নষ্ট করে তাহলে আল্লাহ ইচ্ছা করলে তা মাফ করে দেন। পক্ষান্তরে কেউ যদি মানুষের হক নষ্ট করে তাহলে যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ বান্দা তা মাফ না করবেন ততক্ষণ স্বয়ং আল্লাহও মাফ করবেন না।

মূলত এই জন্যেই ইসলামে বান্দার হককে এতো গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এক হাদিসে নবিজি সা. বলেন, আল্লাহ তায়ালা শহীদের যাবতীয় অন্যায় মাফ করে দেন। কিন্তু ঋণ মাফ করবেন না। কেননা, এটা বান্দার হক। (...)

এখানে ভেবে দেখার বিষয় হচ্ছে, একজন শহীদ যার সকল অপরাধ মাফ করে দেয়া হয়। শাহাদাত বরণের সাথে সাথে যে জান্নাতে প্রবেশ করে। তার ক্ষেত্রে যদি বিষয়টি এমন হয় যে, সাধারণ একজন মানুষের হক নষ্ট করার অপরাধ আল্লাহ মাফ করবেন না; তাহলে সাধারণ একজন মানুষ যদি কোন মানুষের হক নষ্ট করে তাহলে কী অবস্থা হবে?

তার পরিণতি কতটুকু ভয়াবহ আর ভয়ানক হবে তা কল্পনাও করা যায় না। মানুষ যেন এই পরিণতির শিকার না হয় এজন্য আল্লাহ তায়ালা সতর্ক করেছেন। বলেছেন, আর যারা অন্যায়ভাবে এতীমদের সম্পদ আত্নসাৎ করে তারা মূলত তাদের পেটে আগুন ঢুকাচ্ছে। অচিরেই তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (সুরা নিসা: আয়াত ১০)

হযরত আয়েশা সিদ্দিকী রা. সূত্রে বর্ণিত, মহানবি সা. বলেছেন- যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো এক বিঘত পরিমাণ সম্পত্তি ভোগ করবে, কিয়ামতের দিন সাত তবর (স্তর) জমিন তার গলায় ঝুলিয়ে দেয়া হবে। (বুখারী ২৪৫৩, মুসলিম ১৬১২)

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ দান করুন। বান্দার হক নষ্ট করা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ