শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ।। ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
‘কওমি সিলেবাসের মৌলিকত্ব ঠিক রেখে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা দরকার’ দীর্ঘদিনের দ্বীনি খেদমতের স্বীকৃতি পেলেন মুফতি আব্দুল কাইয়ুম বাংলাদেশের হজ কোটা বাড়ল আরও ৫ হাজার, মোট ৮৩ হাজার ৫০০ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর, পরীক্ষা ৫ ডিসেম্বর হেরা গুহার আলো শিশুদের প্রতি নবীজির স্নেহ: আমাদের অনুকরণীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধে শায়খুল কুরআন ফাউন্ডেশনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি ছাত্র জমিয়তের ৫৬ দিনের দাওয়াতি ও সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু শুক্রবার মাদরাসাছাত্র আরিফ হত্যা মামলায় ইকবাল সোবহান চৌধুরী কারাগারে শাপলা গণহত্যার বিচারকাজে রেফারেন্স বই হিসেবে ‘শহীদনামা’ গ্রহণ

অজানা ইতিহাস: যেভাবে শুরু হয় হাদিস লিপিবদ্ধের কাজ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি আব্দুর রহিম: সাহাবায়ে কেরামের যামানায় ও রিসালতের যুগে প্রথম দু’প্রকারের প্রচলন ভালোভাবে হয়েছিলো। হাদীস অস্বীকারকারীরা রিসালতের যুগে হাদীস লেখার বিষয়টি স্বীকার করেন না। তারা মুসলিম শরীফ ইত্যাদিতে আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করে থাকেন। হাদীসটি হচ্ছে, صحيح مسلم (৪ / ২২৯৮( عَن أَبِي سَعِيدٍ الخُدرِيِّ رضي الله عنه ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّىٰ اللهُ عَلَيهِ وَسَلَّمَقَالَ: " لَا تَكتُبُوا عَنِّي، وَمَن كَتَبَ عَنِّي غَيرَ القُرآنِ فَليَمحُهُ، وَحَدِّثُوا عَنِّي،

তাদের দাবী হচ্ছে, হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. কে হাদীস লেখতে নিষেধ করা একথার প্রমাণ বহণ করে যে, রাসূূলুল্লাহ সা. এর যুগে হাদীস লেখা হয়নি। তাছাড়া এ হাদীস দ্বারা এটাও জানা যায় যে, হাদীসগুলো প্রমাণ্য নয়। অন্যথায় রাসূল সা. তা গুরুত্বসহকারে লেখাতেন।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, হাদীস লেখা সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা ছিলো ইসলামের প্রথম যুগে। এর কারণ ছিলো তখন পর্যন্ত কুরআনে কারীম এক কপিতে সংকলিত হয়নি; বরং বিক্ষিপ্ত আকারে সাহাবায়ে কেরামের নিকট লিখিত ছিলো। অপরদিকে সাহাবায়েকেরামও তখন পর্যন্ত কোরআনে কারিমের ভাবধারা সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত ছিলেন না যে, কুরআন ও গাইরে কুরআনের মাঝে পার্থক্য করতে পারবেন। এই অবস্থায় যদি হাদীসও লেখা হতো তবে এই সম্ভাবনা ছিলো যে, তারা কুরআনকে হাদীসের সাথে গড়বড় করে ফেলতেন। এ ভয়ে ও এই সম্ভাবনাকে দূর করার জন্য হাদীস লেখতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু যখন সাহাবায়ে কেরাম কুরআনের ভাবধারা সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে অবগত হয়ে গেলেন। তখন হুজূর সা. হাদীস লেখার অনুমতি দিলেন।

যার বিভিন্ন ঘটনা কুরআনে কারীমে বর্ণিত হয়েছে।

১. سنن الدارمي (১ / ৪২৯): عَن عَبدِ الله بنِ عَمرٍو رَضِيَ الله عَنهُمَا، أَنَّهُ أَتَى رَسُولَ الله صَلَّىٰ اللهُ عَلَيهِ وَسَلَّمَفَقَالَ: يَا رَسُولَ الله ، إِنِّي أُرِيدُ أَن أَروِيَ مِن حَدِيثِكَ، فَأَرَدتُ أَن أَستَعِينَ بِكِتَابِ يَدِي مَعَ قَلبِي، إِن رَأَيتَ ذَلِكَ، فَقَالَ: رَسُولُ الله صَلَّىٰ اللهُ عَلَيهِ وَسَلَّمَ- إِن كَانَ قَالَهُ - ্রعِ حَدِيثِي، ثُمَّ استَعِن بِيَدِكَ مَعَ قَلبِكَ

অর্থ: আবদুল্লাহ ইবনে আমর রহ. রাসূলুল্লাহ স.-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল ! আমি হাদীস বর্ণনা করতে চাই। তাই যদি আপনি অনুমতি দেন, তাহলে আমি স্মরণশক্তির ব্যবহারের সাথে সাথে লেখনীরও সাহায্য গ্রহণ করতে ইচ্ছুক।” তিনি বললেনঃ “আমার হাদীস কণ্ঠস্থ করার সাথে সাথে লেখার মাধ্যমে হাতের সাহয্যও নিতে পারো।