হুমায়ুন আইয়ুব।।
‘লালবাগ থেকে বাংলা একাডেমি’-শিরোনামে আত্মজীবনী লেখার ইচ্ছে ছিল আহমাদ উল্লাহর। তিনি একজন কুরআনের হাফেজ। সুরেলা হাফেজ। তেলাওয়াতে ছিল মায়াবি কণ্ঠ।
রাজধানী ঢাকার লালবাগ মাদরাসায় হজরত মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ.-এর হাতে হিফজের সবক নেন। হিফজ শেষ করেন স্বাধীনতার আগে ১৯৬৯ বা ১৯৭০ সালেই। দীর্ঘ বছর রমজানের তারাবিও পড়ান।
তাবলিগের মারকাজ কাকরাইলের মুরব্বি হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আহমদ, মাওলানা ইউসুফ বিন আব্দুল মজিদ, মাওলানা বেলালসহ অনেকেই তার ছেলেবেলার বন্ধু! ইসলামি ভাবধারার প্রবাদপ্রতীম লেখক মাওলানা আবু তাহের মিছবাহকেও অগ্রজবন্ধু জানতেন তিনি।
হিফজ পরর্বতী দু-এক বছর মাদরাসায় পড়লেও পড়ালেখার ক্যারিয়ার স্কুল-কলেজেই! কোরআনের সুরের মুগ্ধতায় নিজেকে মেলে ধরেন ছন্দ-সুরে। ছড়া-কবিতায়। প্রতিষ্ঠা পান তার কালের সেরা ছড়াশিল্পী হিসেবে। আমীরুল ইসলাম, লুৎফর রহমান লিটন, আবু হাসান শাহরিয়ার, আসলাম সানী, মোশতাক আহমদ, মহিউদ্দিন আকবর প্রমুখ তার ছড়া-কবিতার বন্ধু। বাংলা একাডেমির সাহিত্য সভা, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রসহ নানা আসরের প্রতিভাবান মুখ হাফেজ আহমদ উল্লাহ। লালবাগ মাদরাসার একজন হাফেজ কীভাবে বাংলা একাডেমি আঙিনায় আলোকিত হয়ে উঠলেন- তা নিয়ে আহমাদ উল্লাহর ছিল হাজার গল্প। গল্পের ভেতরের গল্প। সে গল্প না বলেই তিনি চলে গেলেন। গত বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১) রাতে তিনি চলে গেছেন। চলে যাওয়াটা অনেকটা নীরবে। কিছুটা অভিমানে। রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে শুয়ে আছেন। শুয়ে আছেন মাটির বিছানায়। আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দিন।
বাংলা সংবাদপত্রের প্রভাবশালী কাগজ দৈনিক যুগান্তরের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ধর্মপাতার বিভাগীয় সম্পাদক ছিলেন তিনি। যুগান্তর হাফেজ আহমাদ উল্লাহর ২০ বছরের সোনালী কর্মস্থল।
গোলাম সরওয়ার, এবিএম মুসা, আবেদ খানসহ অনেক প্রজ্ঞাবান সম্পাদকের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। হালে যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম। তিনি শুধু একজন সম্পাদক নন; আহমাদ উল্লাহর দীর্ঘ সময়ের সহকর্মী ও বন্ধু। একজন সাংবাদিক নেতাও। সদ্য তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতিও ছিলেন। সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার তিনি।
তবে যতটুকু জানি আহমাদ উল্লাহ কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরও যুগান্তরে নিয়মিত অফিস করেন। করোনা সংকট আর কিডনি সমস্য