রশিদ আহমাদ কাসেমী ও কাউসার লাবীব
প্রথমেই একটা কথা স্পষ্ট করা দরকার; আমরা ব্যক্তিগতভাবে মাওলানা মিযানুর রহমান আযহারীর বিরোধী নই৷ তবে তিনি যদি বিতর্কিত কোনো কথা বলেন বা ভুল মাসআলা বলেন, তাহলে তার ভুলের বিরোধিতা করলে তাঁর বিরোধিতা হয় না।
কিছুদিন আগে মাওলানা আযহারী ইউটিউব চ্যানেল খুলেছেন। বেশ সাড়া পড়ে ইসলাম প্রিয় মানুষের মাঝে। আজ তিনি তার ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। এতে তিনি সামুদ্রিক প্রাণী খাওয়ার বিধান বর্ণনার ক্ষেত্রে একটি বিতর্কিত ফতোয়া প্রদান করেছেন।
ফতোয়া নিয়ে তার বিতর্কিত মন্তব্যের রেকর্ড আগেও আছে। তিনি তার ফেসবুক পেজের এক লাইভে বলেছিলেন, তার ফতোয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয় বিধায়, তিনি আর ফতোয়া দিবেন না। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করতে পারলেন না। ইউটিউব চ্যানেলের প্রথম ভিডিওতেই ফতোয়া দিলেন। আশঙ্কা তৈরি করলেন আরেকটি বিতর্কের।
তিনি তার আজকের ফতোয়ায় বলেন, জাপান থেকে সনিয়া শারমিন নামের এক বোন আমাদের প্রশ্ন করেছেন, সামুদ্রিক কোন কোন প্রাণী খাওয়া যাবে আর কোনটা খাওয়া প্রাণী খাওয়া যাবে না? বিশেষ করে উদাহরণস্বরূপ শামুক, ঝিনুক, অক্টোপাস, স্কুইড এবং কাকড়ার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন।
এ প্রশ্নের জবাবে মাওলানা আযহারী বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমরা বিশ্বাসীরা এই মূলনীতি অবলম্বন করতে হবে যে, যেটা তাইয়িবাত বা পবিত্র সেটা খাওয়া আমাদের জন্য হালাল। আর যেটা খবায়েস বা অপবিত্র সেটা আমাদের জন্য হারাম। তাহলে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি। সামুদ্রিক সব ধরনের প্রাণী বা সি ফুড খাওয়া জায়েজ। যদি এটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না হয় বা তাতে বিষাক্ত কোন জিনিস নেই এমনটা প্রমাণিত হয় তাহলে।’
আমরা যদি সুন্নাহ, ফুকাহাকেরাম ও আইম্মায়ে কেরামের মতের দিকে লক্ষ করি, ‘সমুদ্রের সব কিছু হলাল’ এটা কোনো মাজহাবের মত নয়৷ তবে উনি যে উত্তর দিয়েছেন, তা কিছু কিছু বিশেষজ্ঞ উলামায়ে কেরামের মত৷ তবে অধিকাংশ উলামাগণের নিকট, এটি সঠিক নয়৷
মাওলানা আযহারী এর আগেও তিনি মারজু কওল বা দুর্বল মতামতের পথে হেঁটে বিতর্কে জড়িয়ে ছিলেন। তার ফতোয়ায় সামুদ্রিক কুকুর, শুকরসহ সব প্রাণী জায়েয যদি বিষাক্ত বা ক্ষতিকর না হয়৷ অথচ এটা স্পষ্ট ভুল কথা৷
প্রমাণ ১- বিশেষজ্ঞ মুজতাহিদ ফুকাহাদের অভিমত হল, মাছ ছাড়া অন্য কোনো জলজ প্রাণী খাওয়া জায়েজ নেই। আর যেহেতু অক্টোপাস, স্কুইড (সামুদ্রিক বিশেষ প্রাণী), শামুক, ঝিনুক ইত্যাদি মাছ নয়, তাই এগুলো খাওয়াà