ডা.মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
সারাবিশ্বে বর্তমানে করোনা ভাইরাস আতষ্ক বিরাজ করছে এর বাইরে সমস্যায় আছে লিভারের রোগীদের সংক্রমণজনিত রোগ ফুসফুসের মারাত্মক সংক্রমণ, নিউমোনিয়া ও রেসপিরেটরি ফেইলিওর হয়ে থাকে। এই ভাইরাস লিভারের সরু রক্তনালী ও পিত্তনালীকেও আক্রান্ত করে। কোনো কোনো সময় কভিড-১৯ চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্যও লিভার আক্রান্ত হতে পারে।
আক্রান্তদের ১৪ থেকে ৪৫ ভাগের লিভারের ক্ষতি হতে পারে। তখন লিভারের এসটি, এএলটি ও বিলিরুবিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। লিভার থেকে প্রস্তুত অ্যালবুমিনের পরিমাণও কমে গিয়ে রোগী ঝুঁকিতে পড়ে,আজ করোনাকালে ঝুঁকিকে আছে লিভার সিরোসিসের রোগী নিয়ে কলাম লিখেছেন, বাংলাদেশের বিশিষ্ট হোমিও গবেষক ও দৈনিক স্বাস্থ্য তথ্য সম্পাদক ও প্রকাশক, ডা.এম এ মাজেদ তার কলামে লিখেন, লিভার সিরোসিস হলো আঁতকে ওঠার মতো একটি রোগের নাম। সিরোসিস শুনলেই যেন মনে আসে আরেকটি ভয়াবহ রোগের নাম লিভার ক্যান্সার। সিরোসিস আর ক্যান্সার সাধারণ মানুষের কাছে একে অপরের সমার্থক। আসলে ব্যাপারটি কিন্তু ঠিক তা নয়। রোগ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে অনেকে লিভার সিরোসিসকে লিভার ক্যান্সারের সাথে তুলনা করে।
সিরোসিস কি?
সিরোসিস লিভারের একটি ক্রনিক রোগ যাতে লিভারের সাধারণ গঠন নষ্ট হয়ে যায়। ফলে লিভার হারায় তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা। অনেক ক্ষেত্রেই লিভার সিরোসিস থেকে লিভারে ক্যান্সারও দেখা দিতে পারে। তবে এসব কোন কিছুই হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোকের মতো সহসা ঘটে না। সিরোসিসের রোগী বহু বছর পর্যন্ত কোন রকম রোগের লক্ষণ ছাড়াই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। ঠিক একইভাবে সিরোসিসের কারণে লিভারে সামান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে অথবা সমস্যাটি হতে পারে অনেক বড়। রোগের লক্ষণ আর কষ্টগুলো দেখা দেয় ডিকম্পেনসেটেড বা অ্যাডভান্সড সিরোসিসের কারণে যখন লিভারে বড় ধরনের গোলযোগ দেখা দেয়।
সিরোসিসের লক্ষণ:
আগেই যেমনটি বলেছি, কম্পেনসেটেড সিরোসিসে আক্রান্ত ব্যক্তির তেমন কোন লক্ষণ থাকে না বললেই চলে। অনেক সময় রোগীরা শারীরিক দুর্বলতা, সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, দাঁতের মাড়ি বা নাক থেকে রক্ত পড়া, পেটের ডান পাশে ব্যথা, জ্বর-জ্বর ভাব, ঘন-ঘন পেট খারাপ হওয়া ও পাতলা পায়খানা ইত্যাদি সমস্যা অনুভব করতে পারেন। অ্যাডভান্সড সিরোসিস চিত্রটি কিন্তু একদম বদলে যায়। এ সময় পায়ে-পেটে পানি আসে, জন্ডিস হয় এবং রোগী অনেক সময় অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন। রক্তবমি ও পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়া, ফুসফুসে পানি আসা, কিডনি ফেইলিউর, শরীরের যে কোন জায়গা থেক