আওয়ার ইসলাম: ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের জায়গার উপর অবৈধভাবে রাম মন্দির নির্মাণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, গায়ের জোরে জবর দখলকে কখনো ইতিহাসে বৈধতা দেওয়া যাবে না। বাবরি মসজিদের ইতিহাস কেউ মুছতে পারবে না। আগামী প্রজন্মের সকলেই জানবেন, পাঁশত বছর ধরে এই ভূমির উপর মসজিদ ছিল এবং মুসলমানরা আযান ও নামায আদায় করে আসছিলেন।
কিন্তু বিশ্ববাসীর চোখের সামনেই হিন্দুত্ববাদিরা সন্ত্রাসী কায়দায় ঐতিহাসিক মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেয় এবং প্রতিবাদি কয়েক হাজার মুসলমানকে হত্যা করে। এরপর কয়েক যুগের আইনী লড়াইয়ে ন্যায় বিচারের ভরসাস্থল ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টও হিন্দুত্ববাদে প্রভাবিত হয়ে কোনরূপ প্রমাণপত্র ছাড়া ঐতিহাসিক এই মসজিদের জায়গায় রামমন্দির নির্মাণের রায় দেয়। এই রায় যে আইনসম্মতভাবে হয়নি, বিশ্ববাসী দেখেছে। আদালতের এই আদেশ ইতিহাসে বেআইনী রায় হিসেবে হিন্দুত্ববাদিদের জন্য কলঙ্ক হয়ে থাকবে।
জমিয়ত মহাসচিব বলেন, কয়েক শত বছরের পুরনো আয়া সোফিয়া মসজিদকেও ক্রুসেডারদের ক্রীড়নক কামাল আততুর্ক যাদুঘরে পরিণত করেছিল। কিন্তু সেই চাপিয়ে দেওয়া অবৈধ সিদ্ধান্ত স্থায়ী হয়নি। কামাল আতাতুর্কের চাপিয়ে দেওয়া সকল অবৈধ আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে শুরু করেছে।
বিবৃতিতে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী আরো বলেন, বিজেপি’র হিন্দুত্ববাদিরা যদি ভারতবর্ষের ইতিহাস জানতো, মসজিদ উৎখাত, এনআরসি ও নাগরিকত্ব আইন করার ভাবনা জাগলেও এ জন্য শতবার লজ্জিত হতো। কারণ, দীর্ঘ কয়েক শত বছর মুসলমানরা ভারতবর্ষ শাসন করেছে। সভ্যতা, সংস্কৃতি ও সম্পদের অব্যবস্থাপনা ও শিক্ষাহীন এক বিশৃঙ্খল ভারতবর্ষকে তারা বিশ্ববাসীর কাছে অন্যতম সভ্য, শিল্পোন্নত ও প্রাচুর্যশালী দেশ হিসেবে পরিচিত করেছে।
এই দীর্ঘ শাসনামলে মুসলিম শাসকরা ভারতের হিন্দুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকারকে একদিনের জন্যও সামান্যতম খাটো করে দেখেনি। যদি মুসলমান শাসকরা সা¤প্রদায়িককতার চর্চা করতো, তাহলে দিল্লীতে কোন মন্দির যেমন খুঁজে পাওয়া যেতো না, তেমনি মুসলমানরাও আজ সংখ্যালঘু থাকতো না। আমরা মু