পলাশ রহমান ।।
মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম রহ.। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির মরহুম আমীর। বাংলাদেশের আধ্যাতিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন প্রাণপুরুষ। একজন সাধক, গবেষক এবং আপদমস্তক সংগ্রামী মানুষ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আত্মশুদ্ধির রসায়ন সৃষ্টিকারী একজন উজাড়প্রাণ মানুষ ছিলেন সৈয়দ ফজলুল করীম রহ.।
তিনি আজীবন রাতের অন্ধকারে মানুষকে আন্তশুদ্ধির পথে ডেকেছেন। পথহারা মানুষের হাতে রুহানী আলোর চ্যারাগ তুলে দিয়েছেন। দিনের আলোয় গর্জে উঠেছেন প্রচলিত শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।
তিনি দেশ শাসন, মানুষ শাসনের গোড়ায় হাত দিয়েছিলেন। বলিষ্ঠ কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, শুধুমাত্র নেতা পরিবর্তন করে মানব জীবনের মুক্তি আসবে না, সত্যিকারের মুক্তি এবং শান্তির স্বাদ পেতে হলে নীতির পরিবর্তন করতে হবে। শাসকদের মধ্যে আত্মশুদ্ধি ও খোদাভীতি থাকতে হবে।
নীতিগত পরিবর্তন বা সাংবিধানিক আমুল পরিবর্তন ছাড়া মানবতার মুক্তি অসম্ভব ঘোষণাকারী বাংলাদেশের রাজনীতি এবং আধ্যাতিক স্রোতধারার এই বিরল মানুষটিকে আজ পরম শ্রদ্ধাভরে, বিনম্রচিত্তে স্মরণ করছি। তিনি ২০০৬ সালের ২৫ নভেম্বর এহলোক ত্যাগ করেন।
চরমোনাইর পীর হিসাবে বেশি পরিচিত এই সিংহদিল মানুষটি ১৯৮৭ সালে ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলনের (ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ) প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এর নিঃসঙ্কোচ হাল ধরেছিলেন। তখন হয়তো অনেকেই বুঝে উঠতে পারেনি পীর মুরিদির খানকা থেকে উঠে আসা একজন মানুষ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন একটা ঝাকুনি দিতে পারবেন।
তিনি জোটগত রাজনীতির ক্ষেত্রে ঘোষণা দিয়েছিলেন, মানবতার মুক্তির জন্য ক্ষমতাকেন্দ্রীক কোনো জোট হতে পারে না। জোট হতে হবে আদর্শনির্ভর। মৌলিক আদর্শ পাশ কাটিয়ে ক্ষমতাকেন্দ্রীক জোট করে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়তো করা সম্ভব, কিন্তু জাতীর ভাগ্য বদল করা সম্ভব নয়।
সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. মানব জীবনের প্রতিটি কাজকে ইবাদতে রুপ দেয়ার চেষ্টা করতেন। ভোটকে একটি পবিত্র আমানত হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন এ মহান সাধক।
তিনি বলেছিলেন, নেতা বা শাসক নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত। সঠিক পাত্রে ভোট না দিলে রাষ্ট্রের সকল দূর্নীতি বা অপকর্মের কুফল ভোট প্রদানকারীকেও ভোগ করতে হবে। সুতরাং ভোট কোনো হেলাফেলার বিষয় নয়। সঠিক পাত্রে ভোট প্রদান à
