গাজী আতাউর রহমান
আলেম ও রাজনীতিবিদ
রাজনীতি মানুষের কল্যাণে একটি মহৎ বিষয় হলেও সবাই রজনীতি পছন্দ করেন না। এমনকি রাজনীতি করা ভাল মানুষের কাজ নয়, এমন ধারণাও প্রচলিত রয়েছে। বিশেষ করে সমাজের এক শ্রেণির ধার্মিক মানুষ রাজনীতিকে শুধু অপছন্দই করেন না বরং যারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত তাদের প্রতি খারাপ ধারণাও পোষণ করেন। অথচ আমাদের ইসলাম ধর্ম এ ধারণাকে মোটেও সমর্থন করে না।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তা ইসলাম ধর্মের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রয়োগ ছাড়া ইসলাম পূর্ণাঙ্গতা পায় না। কোন মুসলমানের অপরাজনীতির কারণে ইসলামি রাজনীতিকে অপছন্দ করা বা অস্বীকার করা ইসলাম ধর্মকে অপূর্ণাঙ্গ ধারণা করার শামিল। আর কোন মুসলমান ইসলামকে অপূর্ণাঙ্গ ধারণা করতে পারে না।
ইসলাম কোন ধরনের রাজনীতিকে সমর্থন করে, এ নিয়ে হয়তো বিতর্ক করা যেতে পারে। কিন্তু ইসলামে রাজনীতি নেই, একথা শুধু মূর্খ এবং জ্ঞানপাপীরাই বলতে পারে। কারণ, ইসলাম ধর্মের নবী বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ সা. নিজে একজন রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন।
মহানবী সা. এর একান্ত চার সহচর, ইসলামের প্রধান চার খলীফা হযরত আবু বকর রা., হযরত ওমর রা., হযরত উসমান গণী রা. এবং হযরত আলী রা. সবাই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। তাদের শাসন ব্যবস্থা ইতিহাসে সোনালি যুগ হিসেবে খ্যাত। পরবর্তীতে কিছুটা ত্রুটিপূর্ণ হলেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বে ইসলামী খেলাফতব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মুসলিম দুনিয়া তাদের গৌরবের খেলাফতব্যবস্থা হারিয়ে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি হারিয়েছে। বেশির ভাগ মুসলিম সাম্রাজ্য উপনিবেশিক আগ্রাসী শক্তি গ্রাস করে নিয়েছিল।
বর্তমানে বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে বিভিন্ন ধরনের শাসনব্যবস্থা চলছে। কোথাও রাজতন্ত্র, কোথাও সামরিক একনায়কতন্ত্র, কোথাও উপনিবেশিক শাসন আবার কোথাও পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক শাসন চালু রয়েছে। একমাত্র ইরান ইসলামি শাসনব্যবস্থার দাবি করলেও বাকি মুসলিম বিশ্ব সেটাকে শিয়া শাসন হিসেবেই আখ্যায়িত করে থাকে।
আজ গোটা দুনিয়ায় মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর রাজনীতি প্রকৃত মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে নেই। প্রায় সব মুসলিম শাসকই সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তির তাবেদার ও ক্রà