সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৫ মাঘ ১৪৩২ ।। ৩০ রজব ১৪৪৭


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে একমত তুরস্ক

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছেছে তুরস্ক।

গতকাল বুধবার (২৩ অক্টোবর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ তথ্য জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সিরিয়ায় অভিযানের কারণে আঙ্কারার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যেই, তুরস্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলে নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় আঙ্কারা-মস্কো চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুর্দিরা।

উত্তর সিরিয়ার নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় রাশিয়া-তুরস্কের মধ্যে চুক্তির পরদিনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানালেন, সেখানে যুদ্ধবিরতির স্থায়ী চুক্তিতে সম্মত হয়েছে তার দেশ।

ওয়াশিংটনকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে মন্তব্য করে লড়াইয়ের দায়িত্ব অন্য কাউকে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। মস্কো-আঙ্কারা চুক্তিকে বড় সাফল্যও বলেন ট্রাম্প।

বুধবারই সিরিয়ায় অভিযানের কারণে তুরস্কের দু'জন মন্ত্রী এবং চারজন কর্মকর্তার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ওয়াশিংটন।

ট্রাম্প বলেন, স্থায়ী চুক্তিতে একমত হয়েছে তুরস্ক। এর মাধ্যমে কুর্দিদের নিরাপত্তা আরো নিশ্চিত হবে। আইএস এবং জিহাদি গোষ্ঠীর পুনরুত্থান ঠেকাতে সচেষ্ট থাকার জন্য তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানাই। চুক্তি রক্ষায় ব্যর্থ হলে আঙ্কারার ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালে বাধ্য হবে ওয়াশিংটন। সিরিয়ার তেল স্থাপনার সুরক্ষায় সেখানে কিছু সংখ্যক সেনা মোতায়েন থাকবে।

মস্কো-আঙ্কারা চুক্তি অনুযায়ী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের কোবানি এবং মানবিজে টহল শুরু করেছে রুশ বাহিনী। চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে এরই মধ্যে কুর্দি বাহিনীর প্রধান মাজলুম আবদিকে বিস্তারিত জানিয়েছেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু।

শোইগু বলেন, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী কুর্দিদের বাড়িঘর ছাড়তে হবে না। কুর্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেয়ায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ জানান কুর্দি বাহিনীর প্রধান।

কুর্দি বাহিনী প্রধান মাজলুম আবদি বলেন, বর্তমানে রুশ বাহিনী এবং সিরীয় বাহিনী উত্তরাঞ্চলের বহু জায়গায় মোতায়েন রয়েছে। আমরা তাদেরকে সবধরনে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে উত্তরপূর্বাঞ্চলের কামিশিতে চুক্তিবিরোধী বিক্ষোভ করেছেন কুর্দিরা। চুক্তি অনুযায়ী, সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সকে অস্ত্রশস্ত্রসহ ১শ' ৫০ ঘণ্টার মধ্যে সিরিয়ার সীমান্ত থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে সরে যেতে সময় বেঁধে দেয়া হয়।

জাতিসংঘের স্থানীয় কার্যালয়ের সামনে তুর্কি বাহিনীর হাতে নিহত কুর্দিদের ছবি নিয়ে ওই চুক্তির নিন্দা জানান তারা।

তারা বলেন, উত্তরাঞ্চলের জনগণ কুর্দিদের বিরুদ্ধে তুর্কিবাহিনীর অভিযানের নিন্দা জানাচ্ছি। কারণ আঙ্কারা কুর্দিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। যা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধের সামিল। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের জনগণের সম্মতি ছাড়া কোনো চুক্তিই মানবো না আমরা।

সিরিয়ায় নিরাপদ অঞ্চল গঠনে নিরাপত্তা পরিষদের অনুমতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তার প্রস্তাবে আলোচনার জন্য ন্যাটো সদস্যরা প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিটেন। তুর্কি অভিযানের নিন্দা জানিয়ে সংযত আচরণেরও আহ্বান জানায় দেশটি। এর মধ্যেই সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন ন্যাটো প্রধান।

ন্যাটো মহাসচিব জেন্স স্টোলটেনবার্গ বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানবিক পরিস্থিতি ঝুঁকিতে রয়েছে। এ বিষয়ে ন্যাটো গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তবে তুরস্ক সন্ত্রাসী হামলার কারণে যে পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা যত সংখ্যক সিরিয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে তা ন্যাটোর আর কোনো সদস্য করেনি।

আঙ্কারা এবং মস্কোর চুক্তির ফলাফল কী হবে তা নিয়ে এখনো মন্তব্য করার সময় আসেনি। দেশটিতে রাশিয়ার প্রভাব বিস্তারের বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করছি আমরা।

এদিকে, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে প্রায় ১ হাজার সেনাকে ইরাকে ফিরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাগদাদের অনুমতি ছাড়া এসব সেনাকে সেখানে নিয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ জানিয়ে তাদের প্রত্যাহারে জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছে ইরাক।

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, তারা সেখানে দীর্ঘদিন থাকবেন না। বিতর্কিত চুক্তির মাধ্যমে ইরাকে বর্তমানে ৫ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। নতুন সেনারা কতদিন থাকবে তা স্পষ্ট না হওয়ায় দু'পক্ষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ