আওয়ার ইসলাম: ট্রাম্পের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেঙ্গে যাওয়ার পর বেইজিংয়ে আফগানিস্তান বিষয়ক চীনের বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেছে তালেবানদের একটি প্রতিনিধি দল।
তালেবানের প্রতিনিধিরা চীনা কর্মকর্তাদের সাথে গত রোববার আলোচনায় বসে বলে জানিয়েছেন কাতারে তালেবানের মুখপাত্র সুহায়েল শাহীন৷ তিনি তার অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, তালেবানের নয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বেইজিং সফরে গেছেন এবং চীনের আফগানিস্তান বিষয়ক বিশেষ কর্মকর্তা ড্যাং ঝিজুনের সাথে দেখা করেছেন৷
তিনি আরও লিখেছেন, ‘চীনের বিশেষ প্রতিনিধি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান চুক্তি আফগানিস্তান ইস্যুর শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য একটি ভালো কাঠামো এবং তারা এটিকে সমর্থন করে’। তবে সুহায়েল শাহীনের এ দাবির পক্ষে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি৷
শাহিন টুইটে লিখেছেন, তালেবান প্রতিনিধি দলের নেতা মোল্লা বারাদার বলেছেন যে তারা সংলাপে অংশ নিয়ে একটা ‘সমন্বিত চুক্তিতে’ পৌঁছেছিলেন। বারাদারকে উদ্বৃত করে শাহিন বলেছেন, এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদি তার কথার মর্যাদা রাখতে না পারেন এবং সেটা ভঙ্গ করেন, তাহলে আফগানিস্তানে যে কোনও ধরনের বিভ্রান্তি ও রক্তপাতের জন্য তাকেই দায় নিতে হবে।
উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে আমেরিকা ১৮ বছর ধরে যে সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে তার অবসানের জন্য কাতারভিত্তিক তালেবান বেশ কিছুদিন থেকে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে আসছিল। কাবুল সরকারকে বাদ দিয়ে তারা আমেরিকার সঙ্গে নয় দফা বৈঠক করেছে। কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল আমেরিকার সঙ্গে একটি চুক্তি করা যার আওতায় আফগানিস্তান থেকে সমস্ত মার্কিন সেনা চলে যাবে।
কিন্তু চলতি মাসের প্রথমদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি হামলায় তালেবানের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে তাদের সঙ্গে সব রকমের আলোচনা বন্ধ করে দেন। বলা হচ্ছিল- তার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আমেরিকা এবং তালেবান একটি চূড়ান্ত চুক্তির একেবারে দ্বারপ্রান্তে ছিল।
-এএ