আওয়ার ইসলাম: শিশু আইনে সাংঘর্ষিক বিধান, অসঙ্গতি, অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি দূর করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন হাইকোর্ট।
এ জন্য শিশু আইন সংশোধন অথবা শিশু আইন ২০১৩-এর ৯৭ ধারার আলোকে প্রজ্ঞাপন দ্বারা অস্পষ্টতা ও অসঙ্গতি দূর করতে পারে সরকার।
আদালত বলেছেন, বলতে দ্বিধা নেই যে, শিশু আইন ও আদালত নিয়ে বর্তমানে নিম্ন আদালত ও হাইকোর্ট বিভাগে এক ধরনের বিচারিক বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে।
শিশু আইনের একটি মামলায় জামিন চেয়ে করা আপিলের পর্যবেক্ষণে এমন অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২১ আগস্ট) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জনাব মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।
গত ১ আগস্ট পুরান ঢাকার মো. ওসমান হত্যা মামলার আসামি শিশু মো. হৃদয়ের জামিন আবেদন বিষয়ক এক মামলায় হাইকোর্ট সংক্ষিপ্ত রায় দেন। বুধবার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী। আসামি শিশু হৃদয়ের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এম মশিউর রহমান। শিশু মো. হৃদয়কে জামিন দিয়েছেন আদালত।
অবগতি ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এই রায়ের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট আদালত/ট্রাইব্যুনালসহ সমাজকল্যাণ সচিব, আইন সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রায়ে ভবিষ্যতে জটিলতা এড়াতে ৭ দফা নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো-সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট কেবলমাত্র মামলার তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করবেন এবং এ সংক্রান্ত নিত্যনৈমিত্তিক প্রয়োজনীয় আদেশ এবং নির্দেশনা প্রদান করবেন।
রিমান্ড সংক্রান্ত আদেশ শিশু আদালতেই নিষ্পত্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়। তবে, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু (ভিকটিম এবং সাক্ষী) বা আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুর জবানবন্দি সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট লিপিবদ্ধ করতে পারবেন।
তদন্ত চলাকালীন সময়ে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুকে মামলার ধার্য তারিখে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা হতে অব্যাহতি দেওয়া যেতে পারে।
তদন্ত চলাকালে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুর রিমান্ড, জামিন, বয়স নির্ধারণসহ অন্তর্বর্তী যেকোনো বিষয় শিশু আদালত নিষ্পত্তি করবে এবং এ সংক্রান্ত যেকোনো আবেদন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল হলে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট নথিসহ ওই দরখাস্ত সংশ্লিষ্ট শিশু আদালতে পাঠাবেন এব