শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬ ।। ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
কাল হারামাইনে জুমার খুতবা দেবেন যাঁরা ফের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাকিস্তান বেফাকের সভাপতি হলেন মুফতি তাকী উসমানী জুলাই জোটের সভাপতি মাবরুরুল হক, সাধারণ সম্পাদক জামিল সিদ্দিকী ‘পবিত্র কালেমার অবমাননা ও ভূরাজনৈতিক বিভ্রান্তি এড়াতে সচেতন হোন’  ‘বিশুদ্ধ আকিদা ছাড়া ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণ সম্ভব নয়’ তুরস্ক ও মিশরে যাচ্ছেন মাওলানা মাহফুজুল হকসহ ‘টিম হাফেজ্জী’ সংস্কার ও বিচারের দাবি অপূর্ণ থাকা জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি: পীর সাহেব চরমোনাই হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১১৯ মোহাম্মদপুরে নূরানী বোর্ডের ষান্মাসিক জোড় অনুষ্ঠিত  প্রথম দিনেই চট্টগ্রাম বোর্ডে অনুপস্থিত ১ হাজার ৩৪০ পরীক্ষার্থী

'শোকরানা মাহফিলে শাপলা চত্বর নিয়ে বক্তব্য বিভ্রান্তিকর'

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগর সভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, গতকাল রবিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাইয়্যাতুল উলইয়্যার শোকরানা মাহফিলে ২০১৩ সালের ৫ই মে শাপলা চত্বরের হৃদয়গ্রাহী ঘটনা নিয়ে গুরুতরভাবে সত্যের পরিপন্থী কিছু বক্তব্য এসেছে।

যেটা অত্যন্ত দুঃখজনক, অনাকাঙ্খিত ও সত্যের অপলাপ ছাড়া কিছু নয়। আজ (৫ নভেম্বর) সোমবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শোকরিয়া মাহফিলের অনুষ্ঠানে একজন সরকারী কর্মকর্তা বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ই মে সম্পর্কে অনেক মিথ্যাচার করা হয়েছে। বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে এবং হচ্ছে।

কেউ আজ পর্যন্ত হতাহতের সঠিক তালিকা দিতে পারেনি। ২/১ জনের নাম বলা হয়েছিল, আমরা ইনকোয়ারী করে দেখেছি, উনি বেঁচে আছেন, মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন।

সব অপপ্রচারই ভুল ও মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই আমি বলব, এসব মিথ্যাচারে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। আমি মনে করি, যারা এসব মিথ্যাচার ছড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, ৫ই মে’র শাপলা চত্বর ট্রাজেডির বাস্তবতা ও সত্য ঘটনাবিরোধী এমন বক্তব্যের আমি তীব্র প্রতিবাদ করছি।

সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে হাজার হাজার উলামায়ে কেরাম ও হেফাজত নেতৃবৃন্দের সমাবেশে এমন বক্তব্য তাঁদের সাথে তামাশার সামিল। এমন বক্তব্যে দেশের আলেম সমাজ, হেফাজত কর্মী ও কোটি কোটি তাওহিদী জনতা মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন।

আল্লামা কাসেমী আরো বলেন, ৫ই মে ঘুমন্ত, পরিশ্রান্ত ও অভুক্ত লাখ লাখ হেফাজত নেতাকর্মী ও আলেমের উপর শাপলা চত্বরে রাষ্ট্রীয় বাহিনী মারণাস্ত্র হাতে যেভাবে নিষ্ঠুরতার সাথে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, টেলিভিশন লাইভে দেশবাসীর পাশাপাশি সমগ্র বিশ্ববাসীও দেখেছে।

সেদিন যে অসংখ্য উলামায়ে কেরাম ও হেফাজত কর্মী হতাহত হয়েছেন, তাজা রক্ত ঝরেছে, তার ভিডিও চিত্র ও অসংখ্য প্রমাণ এখনো বিদ্যমান আছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা নিহতদের তালিকাও প্রকাশ করেছে। দেশি-বিদেশী গণমাধ্যম এই নিয়ে অনেক তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

স্বজনহারা অসংখ্য পরিবারের এখনো কান্না থামেনি। পত্রিকায় প্রকাশিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাবে দেখা গেছে, ৫ই মে রাতে শাপলা চত্বরে দেড় লাখের অধিক গ্রেনেড, বুলেট, টিয়ার সেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর হেফাজত আমীর সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেন, শাপলা ট্রাজেডি নিয়ে বাস্তবতার বিপরীত এবং দেশের আলেম সমাজ ও তাওহিদী জনতার ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে নুনের ছিটা দেওয়ার মতো বক্তব্য দিবেন না।

তিনি সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, ২০১৩ সালের ৫ই মে শাপলা চত্বরে আলেমদের উপরে যে নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতা চালানো হয়েছে, সেই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে আহত ও নিহতদের ক্ষতিপুরণ দেবেন এবং দোষীদের শাস্তি দেবেন এবং হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করবেন। আমরা তখন থেকেই এই দাবি জানিয়ে আসছি।

শাপলা চত্বরে কেউ নিহত হয়নি এমন বক্তব্য মিথ্যাচার: আল্লামা বাবুনগরী


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ