রশীদ জামীল
আলেম, কলামিস্ট
গণজাগরণ, হেফাজতের জাগরণ এবং আমার দেশ'র মরণ; তিনটাই অনিযার্য ছিল। একটির আরেকটির সাথে কোনো সম্পর্ক ছিল না, আবার তিনটাই ছিল একই সূত্রে গাঁথা। এই সহজ ব্যাপারটি বুঝবার জন্য কাউকে ইমাম গাজালি কিংবা আইন্সটাইন হতে হয় না।
কাদের মোল্লার ফাসিকে যাবজ্জীবনে বদলে দেওয়ার রায়কে জামাত-আওয়ামী লীগ আঁতাতের ফসল স্লোগান দিয়ে শাহবাগের উত্থান ছিল। শাহবাগ-সংশ্লিষ্ট কিছু বখাটে ব্লগারের নীতি ও নৈতিকতা বিবর্জিত কথাবার্তার প্রতিবাদে ছিল হেফাজতের উত্থান।
কিছু কওমি কিছু হেফাজত ও চেতনার আস্তিন
আর হেফাজতের গায়ের রক্ত গরম করতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছিল মাহমুদুর রহমানের আমার দেশ; সোনার সাথে রঙ মিশিয়ে।
যে যার নীতিতে এবং আপন গতিতেই আগাচ্ছিল। হেফাজতের যাত্রা ছিল ডেস্টিনির হাতে, বাকিরা ছিল যার যার ডেস্টিনেশনের যাত্রী। যে কারণে প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও প্রতিফলে খুব একটা তারতম্য পরিলক্ষিত হয়নি।
দুই
মাহমুদুর রহমান কখনই আমার পছন্দের ব্যক্তি ছিলেন না। অপছন্দও করতাম না তাঁকে। তবে ৫ অক্টোবর ২০১৮ তাঁর লেখাটি পড়ে বুঝলাম কেউ কেউ কেন তাঁকে বাইচান্স সম্পাদক বলে।
আজ তিনি যেভাবে নিজেকে উন্মুক্ত করলেন, তাতে আমি মোটেও অবাক হইনি। কওমি অঙ্গনের সেই ভাইবন্ধুগণ, যারা একসময় মাহমুদূর রহমানকে খালিদ বিন ওয়ালিদ ভাবতে শুরু করে দিয়েছিলেন এবং তাঁকে ডিফেন্স করাকে ঈমানি দায়িত্ব ভাবতেন; তাঁরা একটু অবাক হচ্ছেন কিনা- আমি জানি না।
অর্ধেক সত্য মিথ্যার চেয়েও মারাত্মক। মিথ্যা মানুষকে ততটা বিভ্রান্ত করে না, যতটা করে অর্ধেক সত্য। মাহমুদুর রহমান তাঁর লেখায় সত্যমিথ্যার যে কাসুন্দি গাইলেন, তাতে সঙ্গতকারণেই তাঁর পরীক্ষিত বন্ধু জামাত খুশি হয়েছে। যে কারণে সরাসরি জামাত এবং জামাতের উচ্ছিষ্টভোজীরা মাহমুদুর রহমানের লেখাকে প্রচার করে বেড়াবে, স্বাভাবিক কথা।
কিন্তু কওমি অঙ্গনের কেউ কেউ যদি আবেগের ঠেলায় মাহমুদুর রহমানের হয়ে জামাতের পারপাস সার্ভ করতে শুরু করে দেন, তাহলে তাদের কী বলা যায়?
তিন
মাহমুদুর রহমানের লেখাটিতে সাংবাদিকতার মৌলনীতি সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। নিউজ হোক আর মন্তব্য প্রতিবেদন হোক, উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে শুধু কথা নয়, অ্যাক্সপ্রà§