হাফেজ মাওলানা ইউসুফ নূর
কাতার থেকে
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠদিন আরাফার দিন আর শ্রেষ্ঠরাত লাইলাতুল কদর। রমজানের শেষ দশকের রাজমুকুট হল কদর রজনী। আর জিলহজের প্রথম দশকের গৌরব হচ্ছে আরাফাতের দিন।
মানবজাতি ও মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে ঘটনাবহুল আরাফাতের দিনের ফজিলত, বৈশিষ্ট্য ও করণীয় বিষয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে এ নিবন্ধের অবতারণা। করুণাময়ের তাওফীক একান্ত কাম্য।
আরাফাতের দিনের বৈশিষ্ট ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলী
মহা অঙ্গীকারের দিন
এ দিনে এ আরাফাতের প্রান্তরেই আল্লাহ সকল মানব সন্তান থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন। ইবনু আব্বাস রা. বর্ণিত, রাসুল সা. বলেন, আল্লাহ তায়ালা আরাফাতের দিনে আদম আ. এর ঔরসে যত সন্তান-সন্ততি জন্ম নেয়ার কথা ছিল তাদের সবাইকে আরাফাতের না’মান উপত্যকায় একত্রিত করেন। তখন তারা সবাই ছিল পিঁপড়ের মত ক্ষুদ্রাকৃতির।
তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি কী তোমাদের প্রতিপালক নই? সবাই উত্তরে বলেছিল হ্যাঁ! আমরা সকলে এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি।’ সূরা আল আরাফ -১৭২ বর্ণনায়: আহমদ- ১ম খন্ড:২৭২
সত্যিই সৃষ্টিকর্তার সমীপে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দিনে মানব জাতির এটাই সেরা অঙ্গীকার। আসুন, আজ এ মহান দিনে সে অঙ্গীকার নবায়ন করি।
মহা ঘোষণার দিন
আরাফাতের দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য পরম গর্বের দিন। এদিন আল্লাহ ইসলামকে একমাত্র ও পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা ঘোষণা করেন। এটি মুসলিম জাতির একক গৌরব।
হযরত উমর রা. বর্ণনা করেন, জনৈক ইহুদি তাঁকে বলল, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনাদের কিতাবে একটি আয়াত আছে, যা আপনারা পাঠ করে থাকেন, তা যদি আমাদের ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর অবতীর্ণ হত, তবে অবশ্যই আমরা সে দিনকে ঈদের দিন হিসেবে পালন করতাম।
উমর রা. জিজ্ঞেস করলেন সে আয়াতটি কী? সে বলল, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্মকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে (চিরদিনের জন্য) মনোনীত করলাম।’ সূরা মায়েদা-৩
হযরত উমর বললেন, এটি যে দিনে এবং যে স্থানে রাসুলুল্লাহ সা. এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল, তা আমরা জানি। তিনি সে দিন আরাফায় দাঁড়িয়ে ছিলেন আর সেটা ছিল জুমার দিন। বুখারি: ৪৫
আসুন, এ স্মরণীয় দিনে সমাজের সর্বস্তরে ইসলাম কায়েমের শপথ গ্রহণ করি।
মহান দিন
আরাফার দিনের অন্যতম à