আতাউর রহমান খসরু
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও আলোচনায় উঠেছে কওমি শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাকমিল (দাওরা) কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্সের সমমান দিতে প্রস্তাবিত আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে- গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশের পর স্বীকৃতি বিষয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত ৩০ জুন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রওনক মাহমুদ (মাদরাসা) গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে আইনের খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার তথ্যপ্রদান করেন।
আইনের খসড়াটি দ্রুততম সময়ে মন্ত্রী পরিষদে পাঠানো হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
সরকারের এ বিবৃতি কওমি শিক্ষা সনদের বাস্তবায়নের ব্যাপারে আশার আলো দেখা দিলেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে কওমি শিক্ষা ধারার নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ থেকে সাধারণ ছাত্র-শিক্ষকদের মাঝে।
কারণ, হাইয়াতুল উলয়া তথা আলেম-উলামাকে এক প্রকার আন্ধকারে রেখেই চূড়ান্ত করা হয়েছে কওমি শিক্ষা সনদের এই আইনের খসড়া।
চূড়ান্ত আইনে কি আছে এবং কবে নাগাদ তা সংসদে উঠবে তা জানেন না বেফাকসহ হাইয়াতুল উলয়ার প্রতিনিধিত্বকারী আলেমগণ। এমনকি খসড়া আইন চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টিও সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের জানান নি বলে দাবি করেছেন তারা।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে জাতীয় দীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ-এর মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ আলী নতুন কিছু জানেন না বলে দাবি করেন এবং তিনি বেফাকের সহকারী মহাসচিব মুফতি নুরুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য আমার জানা নেই। মুফতি নুরুল আমিনকে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আপনি তার সঙ্গে কথা বলুন।
মুফতি নুরুল আমিন কওমি শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি বাস্তবায়ন তরান্বিতকরণ এবং সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় গঠিত লিয়াজো কমিটির অন্যতম সদস্য।
খসড়া আইনে কোন কোন বিষয় রাখা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানি না। তারাও আমাদের কিছু জানান নি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। কিন্তু তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনের খসড়া চূড়ান্ত করার আগেই আমাদের দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু গণমাধ্যমে এসেছে আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে অথচ আমরা তা দেখি নি। আমরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত।’