সাইয়েদ মুহাম্মদ সালমান হোসাইনী নদভী
অনুবাদ: জহির উদ্দিন বাবর
আজ মুসলিম বিশ্বের যে অবস্থা তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। উনিশ শতকে যেসব বিপর্যয় মুসলমানদের ওপর পতিত হয়েছে তাদের শাসকদের কারণে তা দিন দিন বাড়ছে এবং গভীর হচ্ছে।
বর্তমানে মুসলিম উম্মাহর রাজনৈতিক, সামরিক ও সাংস্কৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা সৌদি আরবের। তাদের রাজনীতি দ্বিমুখী এবং তারা হারামাইনকে ‘বাহন’ বানিয়ে রেখেছে। সমস্ত মুসলমানকে এই কথা বলে দেয়া উচিত যে, জাজিরাতুল আরব হচ্ছে ইসলাম ও মুসলিম মিল্লাতের হারাম শরিফ।
নবী করিম সা. তাঁর ইন্তেকালের আগে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই ওসিয়ত করেছেন, জাজিরাতুল আরব থেকে মুশরিক ও ইহুদিদের বের করে দিও। হজরত ওমর ফারুক রা. রাসুল সা.-এর ওসিয়তের ওপর আমল করতে গিয়ে জাজিরাতুল আরবকে পবিত্র করেছিলেন। পরে তেরশ বছরের শাসনকালে কারও এই হিম্মত হয়নি যে, জাজিরাতুল আরবে তাদের পুনর্বাসন করবে।
গোটা ইতিহাসে প্রথমবার যে শাসন গোপনে জাজিরাতুল আরবকে ব্রিটেন ও আমেরিকার কাছে সমর্পণ করেছিল, তাদের সঙ্গে গোপনে চুক্তি করেছিল; তাদের সামরিক বাহিনীকে এখানে ঠাঁই করে দিয়েছিল, যারা জাজিরাতুল আরবের সম্পদের বড় অংশটি ভোগ করছে, সেই শাসক ছিল আলে সৌদের।
আলে সৌদ মুসলিম মিল্লাতের এই হারাম শরিফ ও মুসলিম উম্মাহর ভাণ্ডারকে অবৈধভাবে আমির ও শাহজাদাদের ভোগ-বিলাসের জন্য ব্যবহার করেছে। যা আমাদের চেয়ে বেশি জানে আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সরকার এবং সেসব দেশের জনগণ।
যেকোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান বা প্রধান নির্বাহীর একটি বেতনভাতা থাকে। তিনি চাইলেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিজের ইচ্ছামতো ভোগ করতে পারেন না। আর ইসলামে তো এর অনুমতি কোনোভাবেই দেয়নি।
ইসলাম এই শিক্ষা দিয়েছে, হজরত ওমর রা. মসজিদে খুতবা দিচ্ছিলেন আর একজন সাধারণ মুসল্লি দাঁড়িয়ে তাঁকে পোশাকের ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলেন। ইসলামের এসব দৃষ্টান্ত সজীব রাখা জরুরি।
আজকে সৌদি আরবের কার্যকরী শাসক মুহাম্মদ বিন সালমান এবং তার বাবা শাহ সালমান সব সীমা ছাড়িয়ে গেছেন। তাদের সম্পদের দাস্তান আলিফ লায়লা এবং জাহেলি যুগের ইরান ও রোম শাসকদেরও ছাড়িয়ে গেছে। তাদের এই ভোগবিলাস এবং স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের ব্যাপারে গোটা মুসলিম বিশ্ব তাদের প্রশ্ন করার অধিকার রাখে।
দুà¦