পলাশ রহমান
সাংবাদিক
বাংলাদেশে গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনা অহরহ ঘটে। সমাজের বড় বড় লোকরা বাড়িতে কাজের লোক রেখে নির্যাতন করে। তারা বয়স্কা কাজের মানুষটাকে বুয়া বলে। কম বয়সী কিশোরী, তরুণী হলে কি বলে আমি জানি না। তবে আমার মনে হয় 'বুয়া' বা এ জাতীয় নাম করন থেকেই নির্যাতন শুরু হয়। এরপর নানা ভাবে, নানা উপায়ে তা চলতে থাকে। যে নির্যাতনগুলো খুব বেশি মাত্রা ছাড়িয়ে যায় আমরা শুধু সেগুলোই জানতে পারি। কোনো সন্দেহ নেই, আমরা যা জানতে পরি তা প্রতিদিনের ঘটনা থেকে খুবই সামান্য। বলা যেতে পারে লাখে দুই একটা।
কাজের লোক নির্যাতনের বিষয়টা এখন আর বাংলাদেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। আমাদের গুণধর কূটনীতিকরা তা ইউরোপ আমেরিকায় নিয়ে গিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাইরে অন্তত তিনটি গৃহকর্মী নির্যাতনের খবর প্রকাশ পেয়েছে। আমেরিকায় দু'জন বাংলাদেশি কূটনীতিক গ্রেফতারও হয়েছেন। পরে বাংলাদেশ সরকার মুচলেকা দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বাধ্য হয়ে বিদেশে কূটনীতিকদের গৃহকর্মী নিয়ে যাওয়ার উপর নিষেধ জারি করেছে। এই নিষেধ থেকে বোঝা যায় ঘটনা কতো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কারন আমরা সবাই জানি কূটনীতি পাড়ার সব খবর সাধারণ মানুষ জানতে পারে না।
হালের খবর হলো ঢাকার একজন সেনা কর্মকর্তার ঘরে গৃহকর্মী নির্যাতিতা হয়েছে। নির্যাতিতার ভয়াবহ ছবি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। এ নিয়ে বেশ শোরগোল শুরু হয়েছে। যেমন শোরগোল হয় অন্যান্য ঘটনা নিয়ে। কেনো যেনো আমরা কোনো কিছুর প্রতিকার চাই না, প্রতিকার করি না। শোরগোল করতেই বেশি পছন্দ করি। এক একটা ঘটনা ঘটে, প্রকাশ পায়, কিছু দিন তা নিয়ে শোরগোল হয়, ওই ঘটনার সাথে মিল আছে এমন আরো কিছু ঘটনা পটা-পট সামনে আনা হয় এর পরে আবার সব কিছু আগের মতো হয়ে যায়। শুরু হয় নতুন কোনো ঘটানা বা অঘটনার জন্য অপেক্ষা।
সেনা কর্মকর্তার ঘরে কাজের মেয়ে নির্যাতন বিষয়ে জনৈকা সুপ্রীতি ধরের একটা লেখা সোস্যাল মিডিয়ায় বেশ আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। লেখাটা আমি পড়েছি। বেশ মন লাগিয়ে পড়েছি। যারা ওই লিখার সমালোচনা করেছেন তাদের বক্তব্যও পড়ার চেষ্টা করেছি। অনেক কিছুই যৌক্তিক মনে হয়েছে, অনেক কিছু মনে হয়নি। সুপ্রীতি তার লেখার রসদ হিসাবে তারই একজন মেয়ে বন্ধুর ফেসবুক থেকে ছোট একটা স্টাটাস তুলে ধরেছেন। সেখানে সুপ্রীতির বন্ধু তার ঘরের গৃহকর্মীর অপকর্ম সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা বা মতামত ব্যক্ত করেছেন। আমি সুপ্রীতিকে জানি না, কিন্তু তার ওই বন্ধুকে জানি। তাদের রুচি আদর্শ সম্পর্কে সামান্য ধারণা রাখি।
এ বিষয়ে একটি ঘটনা উল্লেখ করতে পারি- সুà¦