মুফতি মুহাম্মাদ শোয়াইব
ন্যূনতম সম্মানজনক জীবনযাপন প্রতিটি মানুষের অধিকার। ইসলামি আইনে যেমন এ অধিকার স্বীকৃত, তেমনি আন্তর্জাতিকভাবেও তা সর্বজনবিধিত।
মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক ঘোষণার ৫২নং পরিচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রতিটি মানুষের কমপক্ষে এমন পর্যায়ের জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে, যাতে তার স্বাস্থ্যের সুরক্ষা হয়, তার ও তার পরিবারের উপযুক্ত জীবনের নিরাপত্তা দেয়া যায়। খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সামাজিক সেবার জোগান নিশ্চিত করা যায়।’
মানুষ যখন বেকারত্ব, অসুস্থতা, অক্ষমতা, বৈধব্য, বার্ধক্য ইত্যাদি সমস্যার সম্মুখীন হয়ে জীবনধারণের উপায়-উপকরণ হারা হয়ে যায়, তখন পর্যায়ক্রমে তার আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর ওপর তার জীবনের নিরাপত্তা দেয়া অনিবার্য দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। আলী রা. বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা ধনীর সম্পদ থেকে ঠিক ততটুকুই জাকাত আদায় করা আবশ্যক করে দিয়েছেন, যাতে তা দরিদ্রদের জন্য যথেষ্ট হয়। যদি কেউ ভুখা-নাঙ্গা থাকে, তাহলে তা মূলত সম্পদশালী ব্যক্তির জাকাত আদায় না করার কারণেই।’ (আবু হাজেম)
বোঝা গেল, আল্লাহ তায়ালা বিত্তশালীর অর্থবিত্তে ততটুকুই জাকাত নির্ধারণ করেছেন, যা দরিদ্রদের জন্য যথেষ্ট হয়। আর দরিদ্রদের জন্য যা যথেষ্ট হয়, তা সম্মানজনক জীবিকার ন্যূনতম সীমা। ওমর রা. বলেন, ‘আমি সব সময় সচেষ্ট থাকি যে, প্রতিটি প্রয়োজনই যেন মেটাই, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা একে অন্যকে সাহায্য করার সামর্থ্য রাখি। আর যদি অক্ষম হয়ে পড়ি, তাহলে যেন আমাদের জীবনযাত্রায় এর প্রতিফলন ঘটাই। অল্পে তুষ্ট হয়ে শুধু যা না হলেই নয়, সে পর্যায়ে এসে সবাই সমান হয়ে যাই।’
অর্থাৎ ইসলাম সম্মানজনকভাবে জীবনযাপনের এমন একটি সুনির্দিষ্ট পর্যায় তথা সীমারেখা টেনে দিয়েছে, যেখানে সবাই একই স্তরে এসে দাঁড়ায়। তবে এখানে এটাও স্মরণ রাখতে হবে যে, প্রত্যেকের উচিত অন্যের করুণাভোগী না হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো।
রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘হালাল উপার্জন করা ফরজগুলোর পরে (গুরুত্বপূর্ণ) ফরজ।’ (বায়হাকি)
ইসলাম ধর্মে সম্পদকে কখনোই অবজ্ঞা করা হয়নি। সম্পদ আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। এ নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় হবে আল্লাহর বান্দা তথা মানুষের সেবা করার মাধ্যমে।
আমর ইবনুল আস রা. বলেন, একবার রাসুল সা. আমাকে বলেন, ‘আমি তোমাকে একটি সেনাদলের দায়িত্ব দিয়ে পাঠাতে চাই। (অতঃপর তুমি যদি সেখান থেকে বিজয়ী হয়ে ফিরে আস) আর যুদ্ধলব্ধ কিছু সম্পদ যদি তোমার হস্তগত