হাসান আল মাহমুদ
প্রতিবেদক, আওয়ার ইসলাম
বাংলাদেশের ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থাপনার প্রাথমিক শিক্ষার নাম নুরানী। বাংলাদেশের শহরে-গ্রামে নুরানী মাদরাসা নামে যেসব মাদরাসা গড়ে উঠেছে, সবই ষাটের দশকে গবেষণালব্ধ ‘নুরানী পদ্ধতি’ শিক্ষার ফসল। এই ‘নুরানী পদ্ধতি’ শিক্ষার প্রবর্তক হলেন হজরত মাওলানা ক্বারী বেলায়েত হুসাইন।
চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি থানার কৃষ্ণপুর গ্রাম বর্তমান নাম বেলায়েত নগরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে প্রায় ১৯০৭ সালে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। জন্মের তিন বছর বয়সে বাবা আব্দুল জলিল এবং ছয় বছর বয়সে মা সাইয়েদা খাতুন নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমান। দুই বোনের মধ্যে ছোট বোন বয়সে তার ১৮ বছরের বড়। শৈশবে বাবা-মা হারা এই ছেলেটিই একদিন হয়ে ওঠেন একটি বৈপ্লবিক শিক্ষা পদ্ধতির আবিষ্কারক।
দরদি চিন্তা-ভাবনা আর কলাকৌশলের সংমিশ্রণে কুরআন শিক্ষার সুন্দর ও সহজতম বৈপ্লবিক শিক্ষা ‘নুরানী পদ্ধতি’ সম্পর্কে জানতে হাজির হই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত নুরানী পদ্ধতি শিক্ষার প্রবর্তক মাওলানা ক্বারী বেলায়েত হুসাইন-এর নিজ বাসভবন নুরানী মঞ্জিলে।
ঘড়িতে সময় তখন দুপুর। মেইন রোড লাগোয়া সুদর্শন বাড়ির সিঁড়ি বেয়ে দু-তলায় গিয়ে আঁতকে উঠি দরোজায় সাঁটানো একটি কাগজের ঘোষণা পড়ে। কাগজে লেখা ‘ রুগীর শয্যাপাশে ১/২ মিনিটের অতিরিক্ত সময় না থাকা এবং কোন ধরনের কথা বা আওয়াজ না করার জন্য অনুরোধ করা হল।- আদেশক্রমে ডাঃ মোঃ আব্দুল হাই। ব্যক্তিগত চিকিৎসক, মাওঃ ক্বারী বেলায়েত হুসাইন’।
ভেতরে প্রবেশ করে দেখি টাইলস করা রুমের এক পাশে চাদর গায়ে জড়িয়ে শুয়ে আছেন মাওলানা ক্বারী বেলায়েত হুসাইন। কোনো শব্দ নেই, রাও নেই। নিস্তব্ধ নীরব। কেবল ঠোঁট দুটো মাঝে মাঝে নড়ছে। আল্লাহ আল্লাহ শব্দের মত কিছু উচ্চারণ শোনা যায়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৪ ডিসেম্বর রাত ১০টায় বার্ধক্যজনিত কারণে ব্রেইন স্ট্রোক করে সেই যে বিছানায় শায়িত হলেন আর উঠতে পারেননি। পরিবার জানায়, বাংলাদেশের নানা হাসপাতালসহ সিঙ্গাপুরে নিয়েও চিকিৎসার চিন্তা করেছিলাম আমরা।

ক্বারী বেলায়েত সাহেবের চোখ বন্ধ। মাঝে মাঝে নাকি চোখ খোলেন। নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকেন যাকে সামনে পান তার দিকে। যেন চোখ দিয়েই বলে দিতে চান উম্মাহ’র দরদি চিন্তায় শিক্ষার আলো বিলাতে কাজ করে যাও।
সার্বক্ষণিক একজন স্বেচ্ছায় আগ্রহী খাদেম থাà¦