বাড়ছে তালাক। ভাঙছে সংসার। তছনছ হচ্ছে অজস্র জীবন। যেন চলছে তালাকের টর্নেডো। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা মহানগরীতে গত ছয় বছরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ছে বিবাহ বিচ্ছেদ। এক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে তালাকে এগিয়ে রয়েছেন মহিলারা।
রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ছয় বছরে বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশ পড়েছে ৩৬ হাজার ৩৭১টি। বিবাহবিচ্ছেদ ঘটেছে ৩০ হাজার ৮৫৫টি। এর মধ্যে স্বামী কর্তৃক স্ত্রী তালাক দেয়ার নোটিশ পড়েছে ১২ হাজার ১৮টি।
তবে স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামীকে তালাকের নোটিশ পড়েছে ২৪ হাজার ৮০৩ টি। এই হিসেবে প্রতিদিন গড়ে ১৪টি, মাসে ৪২৯টি এবং বছরে পাঁচ হাজার ১৪৩টি বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মহানগরীতে খুবই আশঙ্কাজনক হারে তালাক দেয়ার ঘটনা বাড়ছে। সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যা কিছুদিন আগেও ছিল কল্পনাতীত।
বিবাহ ও বিচ্ছেদ নিয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা গবেষণা শুরু করেছেন ১৯৯৫ সাল থেকে। যা এখনও চালু রয়েছে। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, যেসব আবেদন ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে তার মধ্যে ৮৭ শতাংশ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে পরকীয়ার জের ধরে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০০ সালে ঢাকা শহরে মোট তালাক নোটিশের সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৭৫৩টি, ২০০১ সালে দুই হাজার ৯১৬টি, যার মধ্যে তালাকের সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৫৪০টি, ২০০২ সালে নোটিশের সংখ্যা ছিল তিন হাজার ৭৩টি, এর মধ্যে তালাক হয়েছে দুই হাজার ৬১৫টি, ২০০৩ সালে নোটিশ এসেছে তিন হাজার ২০২টি, এবং এর মধ্যে তালাক হয়েছে দুই হাজার ৯৬১টি, ২০০৪ সালে তালাকের নোটিশ এসেছিল তিন হাজার ৩৩৮টি, এবং আপস হয়েছে ৩৩৮টি।
এর মধ্যে উত্তর সিটির হিসাব মতে, ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত সংস্থাটির পাঁচটি অঞ্চলে মোট ২০ হাজার ৫৮৪টি তালাকের নোটিশ পড়েছে। এর মধ্যে স্বামীর পক্ষ থেকে সাত হাজার ১৯ এবং স্ত্রীর পক্ষ থেকে ১৩ হাজার ৪৬৫টি। নোটিশ প্রত্যাহার হয়েছে ৪৬৫টি এবং কার্যকর হয়েছে ১৬ হাজার ৬২১টি। তিন হাজার ৫১৮ নোটিশ চলমান। অন্যদিকে, দক্ষিণ সিটির পাঁচটি অঞ্চলে বিচ্ছেদের নোটিশ পড়েছে ১৫ হাজার ৭৮৭টি। এর মধ্যে স্বামীর পক্ষ থেকে চার হাজার ৯৯৯টি, স্ত্রীর পক্ষ থেকে ১০ হাজার ৮০৩টি। নোটিশ প্রত্যাহার হয়েছে ৩৪৮টি এবং কার্যকর হয়েছে ১৪ হাজার ২৩৪টি।
তালাক দেয়ার দিক থেকে নারীরা এগিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, সামাজিক অবক্ষয়, পুরুষত্বহীনতা, মতের অমিল এবং তথ্য-প্রযুকà§